চীনের চাপের মুখে “রিমুভ চায়না অ্যাপস” প্লে স্টোর সরিয়ে দিল গুগল

সাইফুল্লা লস্কর : মিত্র অ্যাপের পর এবার আরেকটি ভারতীয় অ্যাপ ” রিমুভ চায়না অ্যাপ” প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে দিলো গুগল। যদিও মিত্র অ্যাপটি আবার প্লে স্টোরে ফিরে এসেছে তবে এই অ্যাপটি আর ফিরতে পারবেনা বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর গুগলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা চিনের পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ এনেছেন।

মূলত এই অ্যাপ্লিকেশনটি রাজস্থানের ওয়ান টাচ অ্যাপ ল্যাব বলে একটি ই- কমার্স প্ল্যাটফর্মের তরফ থেকে তৈরি করা হয়। প্লে স্টোরে আসে ১৭ ই মে তারিখে। অ্যাপ্লিকেশনটি ইনস্টল করলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে এটি ওই ফোন বা কম্পিউটারে থাকা সমস্থ চিনা উৎসের অ্যাপ্লিকেশন খুঁজে তাদের ডিলিট করে দেয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর আত্মনির্ভর হওয়ার উপদেশ আর লাদাখে সীমান্ত বিবাদসহ নানা কারণে চীনের ওপর ক্ষুব্ধ  ভারতীয়রা এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে শুরু করে। ফলে জুনের প্রথম সপ্তাহের আগেই এটি প্রায় ৫ মিলিয়ন ডাউনলোড হয়ে যায়। ১ মিলিয়ন ডাউনলোড হওয়া পর্যন্ত এর রেটিং ৪.৮ থাকায় এটি প্লে স্টোরে ট্রেন্ডিং অ্যাপের তালিকায় সবার ওপরে থাকে।

সমস্যা শুরু হয় যখন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস এই ব্যাপারটি নিয়ে ভারতকে হুমকি দেয়। তারা লেখে, ” ভারতীয় সফটওয়ার ‘ রিমুভ চায়না অ্যাপস’ চিনের তরফ থেকে শাস্তি পেতে চলেছে”। এর কয়েকদিন পর প্লে স্টোর থেকে উধাও হয় অ্যাপ্লিকেশনটি। গুগল নিজেদের সিদ্ধান্তের সমর্থনে টুইট করে জানায় যে তারা এমন কোনো অ্যাপ্লিকেশনকে অনুমতি দেয় না যা কোনো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ্লিকেশনকে ক্ষতি করে, সরিয়ে দেয় বা তার কার্যক্রমে বাধা দেয়।

অন্যদিকে চিনা অ্যাপ টিকটককে গুগল প্রয়োজন অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন ভারতীয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর। তারা অভিযোগ করেছে বিশ্বব্যাপী ইউটিউব এবং টিকটকের বিতর্কের মাঝে টিকটকের রেটিং যখন ১.২ হয়ে গিয়েছিল সেই সময় তারা প্লে স্টোর থেকে ৮ মিলিয়ন নেতিবাচক রিভিউ মুছে দেয় ফলে তাদের রেটিং আবার ৪ এর ওপরে চলে যায়।

প্রশ্ন উঠছে গুগল কি চীন সরকারের পক্ষে কাজ করছে? এই দাবিটি যদিও নতুন নয়। গত বছর আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প একটি টুইট করে বলেছিলেন, “আমেরিকার বিলিয়নিয়ার পিটার থিল চীন এবং গুগলের মধ্যে গোপন মেলবন্ধনের বিষয়ে তদন্ত করে দেখতে বলেছেন, তিনি এই ব্যাপারে আমাদের থেকে অনেক বেশি জানেন তাই আমেরিকার সরকার এই ব্যাপারটি দেখবে”। এমন ভাবে গতবছর হংকং এ প্রতিবাদের সময় প্রতিবাদকারীদের সাহায্যের জন্য তৈরি একটি অ্যাপ সরিয়ে দেয় আর এক আমেরিকার কোম্পানি অ্যাপল। যদিও চিনে গুগলে নেই তাই অনেকে এটিকে ভ্রান্ত ধারণা বলে মনে করছেন। আবার অনেকে মনে করেন চিনে তাদের বাজার না থাকলেও তারা চিনের বিশাল বাজারের দিকে লক্ষ্য করে তাদের সঙ্গ দেয়।