~নিজাম পারভেজ শুভো

আজ থেকে তিন বছর আগে ভারতবাসীরা একটি নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়। শব্দটি মোব লিঞ্চিং, শব্দটি হয়তো নতুন নয়, কিন্তু ব্যবহার টি ছিল নতুন। গো রক্ষার নামে পিটিয়ে হত্যা ট্রেন্ড শুরু তখন থেকেই। এরপরেই ভারত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনে পরিণত হয়।
মুহাম্মদ আখলাক, যার ছেলে ভারতীয় এয়ারফোরসের একজন অফিসার, সেই আখলাক কে কুরবানী ঈদের কিছুদিন পরে ফ্রিজে গরুর মাংস আছে বলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তার ফ্রিজে যে গো মাংস আছে এটা প্রচার করা হয়েছিল পাশের মন্দির থেকে, এবং তারপর পরিকল্পিতভাবে একটা উগ্রদল আখলাক এর বাড়ীতে চড়াও হয়, তাকে ঘর টেনে বের করে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।

এটার মধ্যে দিয়েই যদি গো রক্ষার নামে হত্যা বন্ধ হয়ে যেত তাহলে হয়তো ভালো হত, কিন্তু আর এস এস এর প্রধানমন্ত্রী, গুজরাট গণহত্যার নায়ক নরেন্দ্র মোদী তার মুখ দিয়ে একটা কথাও বের করেন নি। এমনকি শাসক দলের লোক আখলাক কে খুনে অভিযুক্তরা জেল থেকে জামিন পেয়ে বের হলে সংবর্ধনা দেয়। তাদের একজন মারা গেলে জাতীয় পতাকায় জড়িয়ে তাদের অন্তিম যাত্রা করা হয়। এটা কি জাতীয় পতাকার অসস্মান নয়!
সামনে ২০১৯ সাধারণ নির্বাচনে নাকি সেই খুনেদের একজন কে সাংসদে পাঠানোর জন্য প্রার্থী করা হবে।
আখলাক পর থেকে ঝাড়খন্ডের ১২ বছরের শিশু মজলুম আনসারি এবং আরেকজন কে সেই একই অভিযোগে হত্যা করা হয়। এদের কে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কি নির্মম সেই দৃশ্য। যা ভারত এর আগে কখনো সাক্ষী থাকে নি।
এখন পর্যন্ত গো রক্ষার নামে প্রায় ৫০ জন নিরীহ মুসলমান পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দল। শুধু তাতেই থেমে থাকেনি। বিজেপির নেতারা সেই হত্যাকারীদের সংবর্ধনা দিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজস্থান, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্র থেকে গুজরাট সব জায়গাতেই তান্ডব চালিয়েছে উগ্রবাদীরা। গো রক্ষার নামে তারা নিরীহ মুসলমানদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

আমাদের পশ্চিমবঙ্গও কিন্তু লিঞ্চিংয়ে পিছিয়ে নেই, এখানেও জলপাইগুড়ি জেলায় গরু পাচারের নামে এক নিরীহ মুসলমান কে হত্যা করেছে তারা, হাওড়া জেলাতে একজন মাদ্রাসা ছাত্র পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া আরো কয়েক জায়গাতে তান্ডব চালিয়েছে গো রক্ষার নামে।
এরা আজ সব জায়গায়, সরকারের পরোক্ষ মদদে ভারতকে এরা আজ একটি নিকৃষ্ট জাতিতে পরিণত করেছে। ধর্মনিরেপক্ষ ভারতের সেই মূল্যবোধ নষ্ট করেছে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
৫০ টার বেশি লিঞ্চিং এর স্বীকার হওয়া ব্যক্তিরা আজও ন্যায় বিচারের অপেক্ষায়।
আখলাক হাম শরমিন্দা হে,
তেরে কাতিল আভি ভি জিন্দা হে।
