
সাইফুল্লা লস্কর : ২০২৫ এর মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার স্বপ্ন দেখানো মোদী সরকারের জামানায় অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক হতে চলেছে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে। ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধি সম্পর্কে এই পূর্বাভাষ দিয়েছেন খোদ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্ণর শক্তিকান্ত দাস। অনেক দিন থেকেই বিরোধীরা এবং রঘুরাম রাজন, ডা. মনমোহন সিং, গীতা গোপীনাথ, অভিজিৎ ব্যানার্জী, অমর্ত্য সেনের মতো অর্থনীতিবিদরা ভারতীয় অর্থনীতির বেহাল দশার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। মোদী সরকার তাদের মতামতকে কোনো গুরুত্ব না দিলেও অবশেষে সেই উদ্বেগ বাস্তবে প্রতিফলিত হতে চলেছে।
তবে এখন সরকারের হাতে আছে এক মোক্ষম অজুহাত। করোনা সংক্রমণ। গতসপ্তাহে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্ণর শাক্তিকান্ত দাস বলেছেন, ” দুই মাসের লকডাউনের দরুন দেশীয় অর্থনৈতিক গতিবিধি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “দেশের সর্বাধিক শিল্প সমৃদ্ধ ছয়টি রাজ্য যারা দেশের শিল্পের ৬০ শতাংশ উৎপাদন করে তাদের বেশিরভাগ অংশই এখন রেড বা অরেঞ্জ জোনের মধ্যে রয়েছে।”
তিনি বলেন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে দেশের গড় জিডিপি বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক অঞ্চলের মধ্যেই থাকবে। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পুনর্বহাল করার চেষ্টা করা হবে ধরে নিলেও দেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য মোদী সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং স্বপ্ন হলো দেশের অর্থনীতিকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলীয়ন ডলারের গণ্ডি পার করানো। যা এখন আছে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের মতে মোদী সরকারের এই স্বপ্ন কখনোই পুরো হবে না। এমনকি মোদীর নিজের দলের সাংসদ সুভ্রামনিয়াম স্বামী গতবছর বলেন অর্থনীতিকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে বার্ষিক গড় জিডিপি বৃদ্ধির হার ১৮% হতে হবে যা অবাস্তব এবং অসম্ভব। গত অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ লকডাউন শুরুর আগে পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৩.১% এবং গত অর্থবছরে সামগ্রিক বৃদ্ধির হার ছিল ৪.২%। এই লক্ষ্যমাত্রার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে রেল মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন আমরা অঙ্কের কথা ভেবে লক্ষ্য স্থর করিনা কারণ নিউটন বা আইনস্টাইন অঙ্কের সাহায্যে নিলে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারতেন না।