আবারও ভয়ানক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, করোনা এবং আম্ফানের পর এবার আতঙ্কের নাম পঙ্গপাল!

সাইফুল্লা লস্কর : প্রাকৃতিক বিপর্যয় পিছু ছাড়ছেনা ভারতের। করোনা আতঙ্কের মাঝেই পূর্ব ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলকে তছনছ করে দিয়ে যায় এই অঞ্চলে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় অম্ফান। এবারে নয়া আতঙ্কের নাম পঙ্গপাল। হ্যা, ঠিকই শুনেছেন পঙ্গপাল। এই নিরীহ বাচ্চাদের ভয় দেখানো এই প্রাণীটি এখন এক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আতঙ্কের নাম। উত্তর ও মধ্য ভারত এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে এখন।

জেনে নেয়া যাক পঙ্গপাল সম্পর্কিত কিছু সাধারণ তথ্য :
পঙ্গপাল মূলত চার প্রকারের হয়। মরু পঙ্গপাল, বোম্বে পঙ্গপাল, যাযাবর পঙ্গপাল এবং বৃক্ষ পঙ্গপাল। এদের মূল বৈশিষ্ট্য হল বহু সংখ্যক পঙ্গপাল সব সময় দল বেঁধে একসঙ্গে উড়ে বেড়ায় এবং খাবার সংগ্রহ করে। ১ বর্গ কিমি আকারের একটা পঙ্গপালের দলে থাকতে পারে প্রায় ৪ কোটি পঙ্গপাল। তিন মাসের জীবন চক্রে একটি পঙ্গপাল তিনবার ৮০-৯০ টি করে ডিম পাড়তে পারে। সবুজ ফসল এবং বৃক্ষরাজি এদের মূল লক্ষ্য তবে এরা মানুষের ওপর আক্রমণ করে না।

ভারতের জন্য এরা কেন হুমকির কারণ ?
পূর্ব আফ্রিকার ব্যাপক এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর এই মরু পঙ্গপালের বিশাল দল ইরান, পাকিস্তানের পর এখন পশ্চিম ভারতথেকে প্রবেশ করে উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র সহ বেশ কিছু রাজ্যে এই পঙ্গপালের দল এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার একর জমির সমস্ত ফসল সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পঙ্গপালের দল এখন রাজস্থান থেকে দিল্লির পথে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতে যে পঙ্গপালের দলটি দেখা গিয়েছে তা প্রায় ২-৩ কিমি দীর্ঘ।

এদের প্রতিরোধের উপায় কি ?
সাধারণত এদেরকে রাসায়নিক পদার্থ ব্যাবহার করে প্রতিরোধ ও ধ্বংস করা যায় তবে এত বিরাট পঙ্গপালের সমুদ্রকে প্রতিরোধ করা আদৌ সহজ কাজ নয়। সরকার এই কাজে বিশেষ যান এবং বিমান ব্যাবহার করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ভারতের আক্রান্ত এলাকার কৃষকরা বাসন বাজিয়ে, লাউ্স্পীকার চালিয়ে শব্দ সৃষ্টি করে তাড়ানোর চেষ্টা করছে তবে এতে সুফল ততটা মিলছেনা। এই লকডাউনের মধ্যে এই আতঙ্ক দুর করতে সরকার কি কার্যকর ব্যাবস্থা নেয় তা এখন দেখার।