
মুর্শিদাবাদ একটি ঐতিহাসিক জেলা, একদা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজধানী। স্বাধীনতার ৭০ বছরের বেশী সময় পার হয়ে গেছে অথচ শিক্ষা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই জেলা ভারতের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর মধ্যে একটি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ, জনসংখ্যার দিক থেকে সারা ভারতে এর স্থান নবম। অথচ এই মুর্শিদাবাদ জেলাতে একটিও বিশ্ববিদ্যালয় এখনো গড়ে ওঠেনি। যার ফলে শিক্ষাদীক্ষার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে এই মুর্শিদাবাদ জেলা। ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে মুর্শিদাবাদ জেলার সাক্ষরতার হার ৬৭.৫৩% যেখানে ভারতের জাতীয় সাক্ষরতার হার ৭৪.০৪% এবং রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৭৬.২৬%। তাছাড়া এই জেলা থেকে প্রতিবছর ত্রিশ হাজার ছাত্রছাত্রী স্নাতক হয়। কিন্তু আর্থিক দুরাবস্থার কারনে ও কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় মেধা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ শিক্ষার আলো থেকে অনেকেই বঞ্চিত থেকে যায়।
এইরকম একটা পিছিয়ে পড়া জেলার লোকজনের দাবী ছিল যে মুর্শিদাবাদে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া হোক। জেলার আপামর জনসাধারন, ছাত্রসমাজ, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও বুদ্ধিজীবীগণ এই দাবী নিয়ে সরব হয়েছেন। সারা মুর্শিদাবাদ জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী নিয়ে আন্দোলন করা হয়েছে, হয়েছে অনেক সভা, মিটিং-মিছিল, পদযাত্রা এবং জেলাজুড়ে বাইক র্যালি। ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাস ফ্রন্ট ও এসআইও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী নিয়ে কলকাতায় বিকাশভবন অভিযানও করেছে।
কয়েকমাস আগে রাজ্য সরকার ঘোষণাও করে যে মুর্শিদাবাদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া হবে। কিন্তু গত অক্টোবর মাসে পাস হওয়া “দ্য মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ২০১৮” এ বলা হয়েছে যে বহরমপুরে অবস্থিত কৃষ্ণনাথ কলেজকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হবে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদবাসী রীতিমত হতাশ।
এর কারন প্রথমতঃ এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষ্ণনাথ কলেজের মতো একটি ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যবাহী কলেজের অবলুপ্তি ঘটবে।
দ্বিতীয়তঃ কৃষ্ণনাথ কলেজের কাছে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার মতো পরিকাঠামো নেই।
তৃতীয়তঃ কলেজটিকে সম্প্রসারিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার জন্য কলেজের কাছে এবং আশেপাশে পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
চতুর্থতঃ বহরমপুর শহরে যানজটের সমস্যা ব্যাপক আকার ধারন করেছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলেজে পৌছাতেই হিমশিম খেতে হবে শিক্ষার্থীদেরকে।

সমগ্র মুর্শিদাবাদবাসীর সার্বিক সুবিধার দিকে লক্ষ রেখে ফোরাম ফর ইউনিভার্সিটি ইন মুর্শিদাবাদ (FUM) এর পক্ষ থেকে আমাদের দাবী হল এই যে বহু আকাঙ্খিত মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়টি NH-৩৪ সংলগ্ন এলাকায় করা হোক তাহলে উপরের সমস্যা গুলোর সম্মুখীন না হয়েই একটি উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে। জেলার সদর শহর বহরমপুর ও পলষন্ডার মাঝে NH-34 লাগোয়া অঞ্চলে যথেষ্ট পরিমানে পতিত জমি, এক ফসলী বা অনাবাদি জমি এবং সরকারী সম্পত্তি আছে যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় অনায়াসে গড়া সম্ভব। ভূমি দফতরের দ্বারা তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য আমরা রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করছি। সবশেষে রাজ্য সরকারের নিকট আমাদের প্রার্থনা এই যে- সমগ্র মুর্শিদাবাদবাসীর এই দাবীকে গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং কৃষ্ণনাথ কলেজ কে স্বমহিমায় অক্ষুণ্ণ রেখে, বিবেচনা পূর্বক পৃথক জায়গায় NH-34 সংলগ্ন এলাকায় ক্যাম্পাস স্থাপন করে জেলাবাসিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেবেন।