
লি ট ন রা কি ব
বহুদূর থেকে ভেসে আসছে সেই ছবি। সুন্দর এবং শান্ত। সমস্তটা যেন ভোরের আলপনা আঁকা। মুহূর্তেই আমি এবং আমার ছোটবেলারা ছুটে ছুটে চলে যায় নবিননগরে… নোনা মাটির সোঁদা গন্ধ অনুভব করি কিন্তু স্পর্শ পাই না আর কিছুতেই।
আমি হাঁটি, ভয় পাই আবার শান্ত হই কিন্তু স্পর্শ পাই না কিছুতেই। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছি অচিনপুরে কিন্তু কিছুতেই যেন পৌঁছাতে পারছিনা কাঙ্খিত স্বপ্ন ভোরে। চুপচাপ কাটে সময়। সকাল দেখি তারপর দুপুর গড়িয়ে বিকেল, ডানামেলে সন্ধ্যে নামে এভাবেই যেন চলতেই থাকে। যার কোন ভাষা নেই, নেই শব্দ, নেই কোন গতিও। শুধুই কুঁকড়ে থাকা !
নিঃস্ব লাগছে। নিজের হাত- পা, শরীরের কলকব্জা; যারা কত আপন ছিল ক্রমশ অযান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। ভয় কিসের? মৃত্যুর পরোয়ানা!
সারাটাদিন চেয়ে আছি আকাশ পানে শূন্যতা যেন সবখানেই।
অথচ প্রকৃতি যেন তার মৃত যৌবন ফিরে পেয়েছে। গাছে গাছে কত নাম না জানা পাখির কিচিরমিচির। শত শত বছর পর যেন প্রকৃতি খুঁজে পেয়েছে নতুন করে তার নিজস্ব ছন্দ ; নিজস্ব নিস্তব্ধতা।
রাজনীতি যখন দুর্বল হয় তখন ধর্মের হাত ধরে আর ধর্ম দুর্বল হলে রাজনীতির কিন্তু অসহায় মানুষগুলোর হাত কেউ ধরে না কখনো। তাই ভালো করে বাঁচতে চাইলে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হই একমাত্র প্রকৃতিই পারে। তাই প্রকৃতির হাত ধরি।এক পৃথিবীর একশো রকম স্বপ্ন দেখার সাধ্য রয়েছে, হ্যাঁ; একমাত্র তারই
জীবন অতি সামান্যই! হাজার হাজার বছরের আমিত্ব আর উত্তরাধিকার বহন করি মাত্র। আমি শুরু, আমি শেষ ;আমিই গোধূলি, আমিই বজ্রপাত…
এ কিছু নয়.. কিছুই না।
আলপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে একদিন ঠিক পৌঁছে যাবো আমাদের নিরন্ন গ্রামে। একদিন তো খুঁজেই পাবো সেই সোনালী সম্ভারে ভরা আমাদের উঠোন। তাই এই চিরকালীন আলপথ ধরে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলা…