
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত ৯ ডিসেম্বর তাঁকে বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিডনি ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করেছিল। পা ফুলে গিয়েছিল। সোমবার হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন কবি। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য পরলোক গমন করলেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন দৈনিক ‘প্রত্যহ’ পত্রিকায়। একসময় যোগ দেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকার পথ চএকাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, ছোটো গল্পকার ও সম্পাদক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল নির্জন’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। এই বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। একে একে প্রকাশিত হয় ‘অন্ধকার বারান্দা’ (১৯৬১), ‘নিরক্ত করবী’ (১৯৬৫), ‘নক্ষত্রজয়ের জন্য’ (১৯৬৯), ‘কলকাতার যিশু’ (১৯৬৯), ‘খোলা মুঠি’ (১৯৭৪), ‘কবিতার বদলে কবিতা’ (১৯৭৬), ‘আজ সকালে’ (১৯৭৮), ‘পাগলা ঘণ্টি’ (১৯৮১), ‘ঘর-দুয়ার’ (১৯৮৩), ‘সময় বড় কম’ (১৯৮৪), ‘ঘুমিয়ে পড়ার আগে’ (১৯৮৭), ‘দেখা হবে’ (২০০২)-সহ অজস্র কবিতার বই। ১৯৭১ সালে লেখা ‘উলঙ্গ রাজা’ তাঁর সেরা রচনাগুলির মধ্যে একটি। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৮ সালে ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কার পান কবি নীরেন্দ্রনাথ। তা ছাড়াও একগুচ্ছ পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৫৮ সালে ‘উল্টোরথ পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘তারাশঙ্কর স্মৃতি’ ও ১৯৭৬ সালে ‘আনন্দ শিরমণি’ পুরস্কার পান কবি। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডি. লিট প্রদান করে। তাঁর মৃত্যুতে লেখক ও পাঠক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।