
দিনকাল ডেস্কঃ আজ কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরী হলে সি.ডি.আর.ও -এর তত্ত্বাবধানে এ.সি.আর.এ-এ.পি.ডি.আর.এ (ACRA-APDRA) ও বন্দিমুক্তি কমিটি -এর পরিচালনায় দেশজুড়ে মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। এই কনভেনশন শুরু হয় সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে, চলে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। আজকের এই সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রনেতা উমর খালিদ, উপস্থিত ছিলেন অর্জুন প্রসাদ সিং, আশীষ গুপ্ত, মিরাতুন নাহার, অমিত দ্যুতি কুমার (গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি), সুজাত ভদ্র (বন্দিমুক্তি কমিটি), সুমন কল্যাণ (আসানসোল সিভিল রাইটস এ্যাসোসিয়েশন) এছাড়াও আরও অনেকে।

প্রতিদিন ভারতে প্রতি মুহূর্তে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ-এর মধ্যদিয়ে শোনা যাচ্ছে ঘাতকের বীভৎস উল্লাস। সংবিধান জীবন-জীবিকার অধিকার মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীন অধিকার গুলি আজ হারিয়ে যাচ্ছে। অবিচার, হিংসা, ভুয়ো সংঘর্ষে পরিকল্পিত হত্যা, চরম আর্থিক বৈষম্য ভারতের ভূমিপুত্রদের, দলিতদের, সংখ্যালঘু মুসলিমদের। রাষ্টের এই চরম বঞ্চনা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাদের স্থান হয় কারাগারে নয়তো হত্যার মধ্যদিয়ে নিভে যায় জীবন প্রদীপ। এই ভাবেই আজ শহীদ ও কারাগারে বন্দি হতে হচ্ছে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ব্যক্তি বর্গকে।
বর্তমান কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটির যে পরিচালন পন্থা তাতে দুটি বিষয় স্পষ্ট, প্রথমতঃ ভারতবর্ষের মত এক বহুমাত্রিক দেশকে একমাত্রিক দেশে পরিণত করা এবং দেশের বদলে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা। অর্থাৎ দেশের মানুষের চেয়ে ব্রিটিশদের মানচিত্রকে প্রধান আসনে বসানো। দ্বিতীয়তঃ ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের মানুষের শাসনকে মজবুত করা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু (বিশেষত মুসলিম) এবং দলিত ও আদিবাসী মানুষকে দেশছাড়া করা, হত্যা অথবা অবদমন করা। এর জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী সন্ত্রাসী আইন (UAPA, AFSPA) ও আরএসএস পরিচালিত সংঘ পরিবারকে ব্যবহার করা।

এই সভাই উপস্থিত সকল বক্তাগণ বর্তমান ভারতে বিজেপি তথা আরএসএস-এর কার্যকলাপে ভারতের সাধারণ কৃষক, দলিত, সংখ্যালঘু মুসলমান অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হচ্ছে। কোথাও চলছে দলিতদের উপর আবার কোথাও চলছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের। মোদী জমানায় বিজেপি নেতাদের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। আর অন্যদিকে নিপীড়িত ও নির্যাতিত হচ্ছে নিচুস্তরের সাধারণ মানুষ। কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। অর্জুন প্রসাদ সিং তার বক্তব্যে বলেন “এমনকিছু আইন বানানো হয়েছে, যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে যখন তখন গ্রেফতার করা হচ্ছে, আর একবার গ্রেফতার হলে তারা আর মুক্তি পাচ্ছে না, যেমন – TADA, POTA, UAPA, AFSPA ইত্যাদি”। তিনি মোদী সরকারের বিকাশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন “অর্থের মূল্য দিন দিন কমে যাচ্ছে”। অমিত দ্যুতি কুমার মানবাধিকার কর্মীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন ‘মানবাধিকার কর্মীদের দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বন্দি, সংখ্যালঘু ও পরিবেশের জন্য আন্দোলন করছেন যারা তাদের মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দি করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন ‘মোদী সরকারের আকাশচুম্বী মূর্তি করার লক্ষ্য হল হিন্দুত্ব শক্তিকে বাস্তবায়িত করা। আরও তিনি বলেন অন্যায় যত বাড়বে মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গবদ্ধতা আরও বাড়বে।’ এই সভার অন্যতম আকর্ষনীয় বক্তা হলেন উমার খালিদ। তিনি মোদী সরকার সম্পর্কে বলেন – এই সরকার কীভাবে আজ পর্যন্ত দাড়িয়ে আছে তা হল ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ এবং টেররিজমের উপর। ফ্যাসিস্ট শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা গোহত্যার নামে, লাভজিহাদের নামে সাধারণ সখ্যালঘু মুসলিমদের হত্যা করছে। আজ আমাদের সাথীরা কেন জেলে যাচ্ছে? তার একমাত্র কারণ সরকারের বিরুদ্ধে বলছে। কৃষকরা আজ তাদের ফসলের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না। তাদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে গেলে তাদেরকে গুলি করা হচ্ছে। মোদী সরকারের কেন্দ্রীয় চাকুরি সম্পর্কে বলেন – মোদী বলেছিলেন প্রতিবছর ২ লাখ যুবকদের চাকরি দেওয়া হবে। আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষে তিনি বলেন এই দেশে এক সন্ত্রাসী চিন্তা ভাবনাকে সরকার রুপ দিতে চাইছে। এর সরকারের বিনাশ করার প্রয়োজন। তা না হলে ভারতে গণতন্ত্র হারিয়ে যাবে।
সবশেষে নিতিশ রায়ের সংগ্রামী সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা হয়।
