
তৃণমূল হোক বা বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গে যে কোন রাজনৈতিক পার্টি ক্ষমতায় আসতে হলে চায় মুসলিম ভোট। এই কথা কিছুটা হলেও স্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কলকাতাড় মহেশ্বরী ভবনে বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার প্রশিক্ষণ শিবিরের এই রকমই সুর সোনা গেল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মুখ থেকে। বিভিন্ন বিজেপি নেতা এদিন বারবার ‘মোদির সংখ্যালঘু উন্নয়ন’ নিয়ে সুর চড়ান। রাজ্যের সভাপিতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে ‘রাজ্যের কোনও রাজনৈতিক দল মুসলিমদের উন্নয়ন করা তো দুরের কথা উন্নয়নের কথা ভাবেওনি’। নেতাদের দাবী যে- পশ্চিমবঙ্গেতো বিজেপি নেই তাহলে এখানকার মুসলিমরা পিছিয়ে কেন। শুনে মনে হচ্ছে –‘এ যেন ভূতের মুখে রামনাম’।
বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার, এই দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভোটে কীভাবে ভাগ বসানো যায় তারই কৌশল শেখানো সংখ্যালঘু মোর্চার। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিন তালাক বন্ধের আন্দোলন কারী মহীয়সী নারী ইসরাত জাহান, সিপিআইএম-এর প্রাক্তন বিধায়ক মাহফুজা খাতুন, রাহুল সিনহা ও আরও অনেক স্থানীয় নেতৃত্ব।
বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন দাবী করেন, ” রাজ্যে অনেক সংখ্যালঘু নেতা বিভিন্ন কারণে বিজেপিতে জগদান করেছেন”। তিনি আরও বলেন “সামনে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে দলীয় নীতি ও আদর্শ সম্পর্কে মোর্চার নেতাদের আরো বেশি বেশি করে জানা উচিত। পার্টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে মানুষকে তাঁরা বোঝাতে পারবেন না। সেই উপলক্ষেই দুইদিন ধরে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় দল সম্পর্কে প্রচার করবেন সংখ্যালঘু নেতারা।”
এই সভার আলোচ্যসূচি দেখে অভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য ‘পারবে কী, বেড়ালে মাছ আগলানোর দায়িত্ব নেওয়ার ভান করে পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘুদের মন জয় করতে”?
