১১ বছরের মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থায় নির্মলা চালিত ভারতীয় অর্থনীতি, অপেক্ষা করছে আরো খারাপ সময়

সাইফুল্লা লস্কর : গত ১১ বছরের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি সব থেকে খারাপ দশায় উপনিত হয়েছে ঠিক প্রথম লকডাউন শুরুর সময়। গত ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.১ শতাংশে, যা প্রত্যাশিত বৃদ্ধির হারের থেকে ১ শতাংশ কম এবং পুরো অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪.২ শতাংশ যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জিডিপি বৃদ্ধির এই হার সম্পূর্ণরূপে অর্থনীতির ওপর করোনা ভাইরাস এবং তার জেরে বলবৎ করা লকডাউনের প্রভাবের প্রতিফলক নয় কারণ এনএসও কর্তৃক জারি করা এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে এই হিসেব ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে এবং লকডাউন ভারতে শুরু হয়েছে ২৩ শে মার্চ থেকে তাই লকডাউনের খুব একটা প্রভাব এই ত্রৈমাসিক জিডিপি বৃদ্ধির হারে পড়েনি।

তবে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার থেকে অর্থনীতির ওপর করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের প্রভাব সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যাবে। কারণ ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশ ব্যাপী বলবৎ করা লকডাউনের কারণে দেশের উৎপাদন খাত, পরিষেবা, বিনোদন, পর্যটন ইত্যাদি সমস্ত খাত প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় যার ভয়নক প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতির ওপর বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.১ শতাংশ, ঠিক এর পর থেকেই অর্থনীতি ক্রমশ নিন্মমুখি প্রবণতা দেখিয়ে আসছে।

পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি ভারতের চলতি ২০২০-২১ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে বিভিন্ন অর্থনীতি পর্যবেক্ষক সংস্থার পক্ষ থেকে। মুডির পূর্বাভাষ মতে চলতি বছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে। বর্তমানে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ভারতীয় অর্থনীতির মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৪৩ বিলীয়ন ডলার। অর্থনীতির এই দৌনদশার মধ্যে মোদী সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গুলোর বেসরকারীকরণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় থাকছে। ভারতীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি পরিষেবা খাত এবং উৎপাদন খাত লকডাউনের প্রভাব ছেড়ে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারলে অর্থনীতি মোদী জামানায় আরো নিচের দিকে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।