শিলঙয়ে সিবি আইয়ের মুখোমুখি হবেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার

দিনকাল ডেস্কঃ আজ শিলং-এ সিবিআই আধিকারিকদের সামনে হাজিরা দেবেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। একথা জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই।সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে সিট বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সিটের প্রধান ছিলেন রাজীব কুমার। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তভার নেয় সিবিআই। কুণাল ঘোষ, সৃঞ্জয় বোস, মদন মিত্র, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পালকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি রবিবার তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষকেও শিলং-এ ডেকে  পাঠানো  হয়েছে। সারদা কাণ্ড প্রকাশ্যে  আসার  পর রাজ্য   সরকারের  তৈরি বিশেষ  তদন্তকারী দলের হাতে গ্রেফতার হন কুণাল। মামলার  তদন্তভার হাতে  নিয়ে  তাঁকে  গ্রেফতার দেখিয়ে  নিজেদের হাতে নেয়  সিবিআই। এরই  মাঝে দল  থেকে  সাসপেন্ড  হন কুণাল। দীর্ঘ  দিন জেলে  থাকার পর কিছু দিন আগে তাঁকে জামিন দেয়  আদালত। তবে প্রথমে তাঁর জামিনের জন্য  কয়েকটি শর্ত রাখা  হয়েছিল পরে তা তুলে  নেয় আদালত। দীর্ঘ দিন জেলে থাকার সময় গোটা ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের  অন্য শীর্ষ নেতাদের অভিযুক্ত করেছেন কুণাল। জেল থেকে  আদালতে  বা হাসপাতালে  যাওয়ার পথে   সুযোগ পেলেই  সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে  কথা  বলে ক্ষোভ উগড়ে  দিতেন এই প্রাক্তন সাংসদ।  শুধু তাই নয় তৎকালীন  বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকেও অভিযুক্ত করেন তিনি। শুধু কুণালই নয়, সূত্রের খবর, সৃঞ্জশ বোসকেও ডাকা হতে পারে শিলং-এ। রাজীব কুমারের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার জন্য।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, সিটের দায়িত্বে থাকাকালীন সারদা চিটফান্ড সংক্রান্ত একাধিক নথি নষ্ট করেছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। সে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।বেশ কয়েকবার তাঁকে নোটিশও পাঠানো হলেও, তিনি হাজির বা কোনও উত্তর দেননি বলে অভিযোগ।গত রবিবার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানেই তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যদিও তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সেই রাতেই ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের জব্দ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেন তিনি। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই।