ইমামস কাউন্সিল-এর “আসুন সকলে মিলে দেশ বাঁচাই” শীর্ষক সেমিনার হয়ে গেল বহরমপুরে

সমস্ত মাযহাবের সচেতন ওলামাদের সম্মিলিত সংগঠন অল ইন্ডিয়া ইমামস কাউন্সিল। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা দেশব্যাপী চলছে “আসুন সকলে মিলে দেশ বাঁচাই” শিরোনামে জাতীয় প্রচারাভিযান। এর অংশ হিসেবে বহরমপুর ব্লকের শাহজাদপুর গ্রামের শিশার ধার জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো একটি সেমিনার। এই সেমিনারে ৩০০ ও বেশি এলাকার পুরুষ ও মহিলা জমায়েত হন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া ইমামস কাউন্সিলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মৌলানা জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন “আমাদের দেশ মুসলিম, হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, দলিত, আদিবাসীদের হাজার হাজার প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর নিজেদের উঁচু জাত ভাবা একটি শ্রেণী কোনো নির্বাচন ছাড়াই দেশ পরিচালনার সকল শীর্স্থান দখল করে নেয়। দেশের জন্য সব কিছু কুরবানকারি মুসলিম দলিত আদিবাসী ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে ক্ষমতার শীর্ষ পদ থেকে দূরে রাখা হয়। পরিকল্পিত পিটিয়ে হত্যা, কৃষক ও সাংবাদিক ও দলিতদের হত্যা, পুরোহিত ও করসেবক দ্বারা মহিলা ও শিশুদের যৌণ হেনস্তা, গো রক্ষার নামে ফাঁসি ও হত্যা, শিক্ষাঙ্গন গুলির গৈরিকরন ও সংখ্যালঘুদের প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা হরণ, লাভ জিহাদ, সুর্য নমস্কার ইত্যাদির মাধ্যমে আবহাওয়া বিষাক্ত করে সম্প্রদয়িক উত্তেজনার সৃষ্টি করা হচ্ছে। মুসলিমদের ব্যক্তিগত আইনে হস্তক্ষেপ, তালাক ও হালালার মতো বিষয়কে সম্বল করে সকল ভারতীয়দের জন্য একই আইন (Uniform Civil Code)চালু করার প্রচেষ্টা। সরকার পরিচালিত স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের প্রচেষ্টা। ইতিহাস বিকৃতি, সূর্য নমস্কার, বন্দে মাতারাম, গীতা পাঠ এর মতো বিষয় বেআইনি ভাবে সমস্ত ভারতীয়দের উপর চাপিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস। স্রষ্টা সম্পর্কে হিন্দুত্ববাদী ধারণা সমস্ত ভারতীয়দের জাতীয় চেতনা বলে প্রচারণা এবং এর বিরোধীদর, দেশদ্রোহী ও গাদ্দার বলে মোহর লাগিয়ে দেয়ার প্রয়াস চলছে।
উপস্থিত ছিলেন মহালনদী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মৌলানা ওবায়দুল্লাহ নূরী সাহেব তিনি বলেন; প্রকৃত শত্রু কে? এটা জানা দরকার। এদেশের শত্রু কোনো হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, দলিত বা আদিবাসী কেউ নয়। এদেশের শত্রু ওই অপশক্তি, যারা এদেশকে টুকরো টুকরো করতে চাই। জাতীয় ঐক্য নষ্ট করে, জনগণকে বিভক্ত করে শাসন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাই। যারা দেশের সমস্ত সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে চাই। যারা এদেশের আইন ও আইনি ধারা গুলি ধংস করতে চাই। যারা ভারতীয়দের কল্পিত প্রভু সেজে দেশের স্থায়ী ক্ষমতা ধরে রাখতে চাই। আর তারা হলো আরএসএস, বিজেপি ও তাদের সহযোগী দল ও সংগঠন।


এর সমাধান কি? এ বিষয়ে তিনি বলেন -এবিষয়ে সবচেয়ে কার্যকরী ও ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ দলগুলো। আর সেটা করতে হলে তাদের মধ্যে প্রকৃত ঐক্য স্থাপন জরুরী। ২০১৯-এর নির্বাচনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালালে আরএসএস, বিজেপির অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ তাঁদের ছুড়েফেলবে দ্বিতীয় কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে, বিভিন্ন মতাদর্শের সামাজিক সংগঠনগুলি, যারা দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। তাঁদের ও ঐকবদ্ধ ভাবে চেষ্টা চালাতে হবে। তৃতীয় কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে পারেন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তাঁদের সাহসী পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে উৎসাহ যোগাবে। চথুর্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারেন সাধারণ জনগণ , তাঁদেরও এ বিষয়ে বুঝতে হবে যে দেশের প্রকৃত শত্রু কে এবং সকলের জন্য ভয়ের কারণ কি কি ?
দেশবিরোধী সকল অপতৎপরতা রোধের জন্য ঘর হতে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষত সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এটা জানা জরুরি যে আরএসএস, বিজেপি ওই বিষাক্ত সাপের নাম যার ছোবলে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা জ্বলে পুড়ে শেষ হচ্ছে। তাই তা থেকে বাঁচার জন্য কোন পরিকল্পনার মাধ্যমে ঐকবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। আর এই বিশ্বাস সকলের থাকা উচিৎ যে আমাদের দেশ, সমাজ ও ধর্মের কল্যাণের জন্য আল্লাহ ছাড়া কাওকেই ভয় পাইনা। আর আমরা দেশ ও সমাজের কল্যাণ বিরোধী কোনো সমঝোতা করতে পারি না।
আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হল সততার সাথে, ঐকবদ্ধ ভাবে, সম্মানের সহিত নিজে বেঁচে অন্যকে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া ও সারা দেশে ছাড়িয়া থাকা ইজরাইলি এজেন্টদের খুঁজে দেশ হতে বহিস্কার করা। তাই সকল দেশপ্রেমী মানুষের এই প্রচারাভিযানে অংশ গ্রহণ ও সকল প্রকার সহযোগিতা একান্ত ভাবে কাম্য। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া ইমামস কাউন্সিলের জেলা কমিটি সদস্য সাইদুর রহমান সাহেব ও এলাকার উলামায়ে কেরামগন।