
করিমগঞ্জঃ আখলাক-পেহলুখান-জুনেদের পরে এবার আসামের করিমগঞ্জ জেলার আব্দুল মতিন মব লিঞ্চিং-এর শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন। তবে অভিযোগটা একটু ভিন্ন। হত্যার স্টাইল একই। আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় চুরির। ৪৫ বছরের আব্দুল মতিন এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে পিটিয়ে খুন করেন করিমগঞ্জ জিলার ফকিরবাজার এলাকার মলিপাড়া গ্রামের কতিপয় যুবক।
খবর অনুযায়ী আব্দুল মতিন গত ১৮ জানুয়ারী শুক্রবার সকালের দিকে নিজের গ্রাম বড়শিলা থেকে ব্যক্তিগত কাজে ফকিরবাজারে যাচ্ছিলেন। বাজারে যাওয়ার সময় মলিপাড়া গ্রামে আসার পর মতিনকে ধরেন করেন ওই গ্রামের কিছু যুবক। তারা স্কুলের গ্রিল চুরি করার অভিযোগ তুলে আব্দুল মতিনকে মারপিট শুরু করে। উন্মত্ত যুবকদের বেদম প্রহারে এক সময় মতিন অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মতিনকে উদ্বার করে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্হা বেগতিক থাকায় পরে মতিনকে শিলচর মেডিকেল কলেজে স্হানান্তরিত করা হয়।

শুক্রবার থেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে ২০ জানুয়ারী রবিবার সকালে মারা যান মতিন। মৃত্যুর খবর বাড়িতে আসতেই কান্নায় ভঙ্গে পড়েন মতিনের স্ত্রী-পুত্র আত্মীয় সজনরা। এদিকে, মৃত্যুর খবর চাউর হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে পুরো ফকিরবাজার এলাকা। দোষীদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েন হাজার হাজার জনতা। স্হানীয়দের অভিযোগ, রিংকু মালাকার নামের এক উগ্র বাংলাদেশী মুলের হিন্দু যুবকের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় নিরীহ মতিনকে।ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জানুয়ারী রবিবার মালিপাড়া গ্রামের স্বপন মালাকার ও কাজল মালাকার নামের দু’জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। স্থানীয় সমাজকর্মী সাহাবুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে হাজার হাজার মুসলিম যুবক রবিবার সন্ধ্যায় রাজপথে নেমে এসে মিছিল করে প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবী, এটা পূর্ব পরিকল্পিত একটা হত্যা। এই হত্যায় জড়িতরা অবৈধ বাংলাদেশী হিন্দু। পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত রিংকু মালাকারকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।
সূত্রঃ দৈনিক বারাক
