প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য- আরব বিজ্ঞান ভাবনার পাশ্চাত্য গমণ – ৫

চৌধুরী আতিকুর রহমান

রবার্ট গ্রস্টেস্ট (১১৭৫-১২৬৩)-ইংরেজ বিশপ ও জ্ঞানী। তিনি অ্যারিস্টটলের দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অনুবাদ ও পরিচর্যাকারী ছিলেন। সাফোকে জন্ম, অক্সফোর্ডে লেখা-পড়া করেন এবং সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। ১১৯৫ থেকে ১২২১ পর্যন্ত ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাঁর দার্শনিক প্রতিভা যেমন ছিল, তেমনই বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে মনস্তত্ব, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান ও রঙ নিয়ে আলোচনা করেন। রজার বেকন ছিলেন তাঁর সুযোগ্য ছাত্র। উভয়ের মিলিত প্রচেষ্টায় আরব বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আল খাজিনির ‘মিজানুল হিকমা’ বইয়ের লিভারের বিভিন্ন সূত্র, কৈশিক জলের পর্যবেক্ষণ, তরলের তাপমাত্রা নির্ণয়, অভিকর্ষজ ত্বরণ ও পৃথিবীর কেন্দ্রে জলের ঘনত্ব বেশি এইসকল তত্ত্বের অনুবাদ ও গবেষণা করেন। ইবন সারাবির (Serapion) De Simplicibus, আবু মাশার আল বালখির Introduction to Astrology, আবু কামিল সুজা ইবন আসলামের বীজগণিত বইটি তিনি ল্যাটিনে অনুবাদ করেন।

সেলার্নোর চিকিৎসাবিদ্যালয়ের হিউ ও থিওডরিকের নামের সাথে অপারেশনের আগে অজ্ঞান করার যে পদ্ধতির নাম জড়িত রয়েছে তা ভারতবর্ষে বহু আগে থেকেই জানা ছিল। এর জন্যে ব্যবহৃত হত অ্যাট্রোপিন, গাঁজা ও আফিমের নির্যাস। আরবরা এর সঙ্গে ম্যানড্রোগরা, আইভি, হেমলক ইত্যাদি ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় প্রাপ্ত ভেষজের জৈব-রাসায়নিক নির্যাস যোগ করে। ‘অ্যান্টিডোটিরিয়াম’ বইটি একাদশ শতক নাগাদ সেলার্নোর নিকোলাস লেখেন। এই বইয়ে অ্যাট্রোপিন, ম্যানড্রোগরা, আইভি, হেমলক, তুঁত, লেটুস, গাঁজা ও আফিমের নির্যাস একটি কাপড়ে বা স্পঞ্জে নিয়ে অপারেশনের আগে অজ্ঞানের জন্যে রোগীকে শোঁকানো হত। অজ্ঞান অবস্থা কাটানোর জন্যে কালোজিরা জাতীয় বিজের গুঁড়ো নিয়ে রোগীর নাকে ধরা হত। ক্রুসেডের সময় পিছিয়ে পড়া ইউরোপ বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রুসেডাররা আরব ঔষধবিদ্যার সংস্পর্ষে আসে। ভেনিস ছিল নৌ শক্তির প্রধান। তারা সিরিয়ার অ্যাকরে কাস্টম বা শুল্ক অফিস খোলে এবং নানারকম রাসায়নিক ঔষধ, ভেষজ ও তার নির্যাস প্রাচ্য থেকে বিশেষ করে আরবিভাষী দেশ সমূহ থেকে আনতে থাকে। এই বাণিজ্য বস্তুগুলি হল অ্যালো, বেনজয়েন, কর্পুর, লবঙ্গ, এলাচ, কাবাবচিনি, আদা, মেঙ্ক, নার্দ, দারচিনি, আফিম, মরিচ রুবার্ব ইত্যাদি।