
সাইফুল্লা লস্কর : বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর করা ভবিষ্যতবাণী সত্য প্রমাণিত করে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দের ঠিক আজকের দিনেই অর্থাৎ ২৯ শে মে তারিখে ৫৩ দিনের অবরোধের পর অসংখ্য শহীদের শাহাদাতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল সেই কাঙ্খিত বিজয় যা পতন ঘটিয়েছিল ২৭ খ্রিস্টপূর্ব থেকে পথচলা শুরু করা মহাশক্তিশালী সাম্রাজ্যের। প্রায় ১৫০০ বছর ধরে চলমান রোমান সাম্রাজ্যের অহংকারের প্রতীক, বহু দেশ বিজেতার স্বপ্ন সমাধি ঘটেছিল যে ঐতিহাসিক কনস্টান্টিনোপল নগরীর মহাপ্রাচীরের তোরণের সম্মুখে সেই কনস্টান্টিনোপল (বর্তমানে ইস্তানবুল) নগরীর গগনলোককে আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত করে ইসলামের সুশীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার পথ প্রসারিত করা সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ আল ফাতিহের স্বপ্ন বাস্তবতার সাক্ষাৎ লাভ করেছিল এমন এক সম সংখ্যা মানের দিবসের সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে।
৬ ই এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অবরোধের প্রথম দিকে সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়া সত্বেও ওসমানী সেনারা অনেক রক্ত এবং জীবন দিয়েও নগরীর দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করতে সক্ষম হয়নি। ওসমানী খিলাফতের নৌবাহিনীও তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি প্রাচীর ঘেরা নগরীর কোনো অংশের প্রাচীরে ফাটল ধরাতে। বসফরাস থেকে ২৬ কিমি সড়কপথ অতিক্রম করে ওসমানী সাম্রাজ্যের নৌজাহাজগুলো সুলতানের মস্তিষ্কপ্রসূত বিশেষ রণকৌশলে অতি গোপনে বাইজান্টাইনের সশক্ত নৌ অবরোধকে পাশ কাটাতে সক্ষম হয়েছিল যা এই বিজয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই ঘটনা সেই সময় সুপ্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র এবং তৎকালীন অজেয় খ্যাত সুউচ্চ প্রাচীরে পরিবেষ্ঠিত কনস্টান্টিনোপল নগরীর পতনের ফলে মুসলমানরা সরাসরি বস্ফোরাসের ওপর নিরবচছিন্ন এবং একক নিয়ন্ত্রণ লাভ করে যা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য অন্যতম মূল বানিজ্যিক পথ। এটি সালতানাতে ওসমানীয়ার ইউরোপীয় মুলভুখন্ড জয়ের প্রথম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই বিজয়ের পর অটোম্যানদের রাজধানী স্থানান্তরিত হয় কনস্টাটিনোপলে এবং রোমান সাম্রাজ্য নিজের বহুদিনের সফর সমাপ্তি ঘটিয়ে ইতিহাসের বুকে স্থান লাভ করে। বলকান অঞ্চলে মুসলমানদের আধিপত্য দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় সালতানাতে ওসমানীয়ার সপ্তম সুলতান ২১ বছরের যুবক সুলতান মেহমেতের হাত ধরে। এই ঘটনা ওসমানীয়োদের মনোবল বহুগুণ বৃদ্ধি করে ফলে পরবর্তীকালে অনেক বিজয় তাদের কাছে ধরা দেয়।