পুলিশি বর্বরতার শিকার বারুইপুরের খিরিশতলা গ্রাম

পুলিশি বর্বরতার চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ পুলিশি বর্বরতার শিকার বারুইপুরের খিরিশতলা গ্রাম। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউন স্বার্থক করার দায়িত্ব পুলিশের হতে দেয়ার পর থেকে পুলিশের অমানবিক রূপের সঙ্গে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে পরিচিতি হতে হয়েছে তবে পুলিশি বর্বরতার চরম রূপ দেখা গেলো গত কয়েক দিনে বারুপুর থানার সুভাষগ্রাম এলাকার খিরিশতলা গ্রামে। ঘটনার ভয়াবহতায় গ্রামটি এখন প্রায় একটি পরিত্যাক্ত জনপদে পর্যবসিত হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ ই মে থেকে যেদিন সকাল ৯ টার দিকে বারুইপুর থানার পুলিশ বিনা কারণে খিরিশতলা গ্রামে প্রবেশ করে স্থানীয়দের ওপর নির্বিচারে লাঠি চার্জ করতে শুরু করে। কয়েকজন ছেলে তাদের পরিবারের সাথে কাছাকাছি একটা বাড়ির ছাদে থেকে ঘটনা লক্ষ্য করছিল কিন্তু সেটা পুলিশ দেখতে পাওয়ায় তাদের বাড়িতে বিনা অনুমতিতে জোর করে বেআইনিভাবে  ঘরে ঢোকা পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

পরের দিন স্থানীয় চা বিক্রেতা খালেক মন্ডল ঠিক ৯ টার সময় এক পঞ্চায়েত স্বেচ্ছাসেবকের কথা মত দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করার সময় বারুইপুর থানার এসআই ধনঞ্জয় মুখার্জির নেতৃত্ত্বে একটা পুলিশ বাহিনী এসে আচমকাই তাকে নির্মম ভাবে মারতে থাকে। স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এসে এসআইকে বোঝানোর চেষ্টা করে তাকেও পুলিশের বর্বরতার শিকার হতে হয়। ঠিক এই সময় স্থানীয় কিছু মানুষ পুলিশের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাদের উপরেও লাঠি চার্জ শুরু করে, ফলে গ্রামের মানুষ নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ফলে পুলিশের গাড়ির কিছু ক্ষতি হয় এবং পুলিশ গ্রামে ছেড়ে পালিয়ে যায়।প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে বারুইপুর থানার এসআই ও ডিপিও ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, সাদা পোশাকের কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তির সঙ্গে কমব্যাট ফোর্স নিয়ে হাজির হয়ে এলোপাথাড়িভাবে গ্রামবাসীদের ওপর লাঠিচার্জ করতে থাকে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, অসুস্থ থেকে মহিলা কেউ এই পুলিশের নির্মমতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

এমনকি ১৩ বছরের সাবিনা খাতুন নামের একটি মেয়ে বাড়ির মধ্যে কোরআন শরীফ পাঠরত অবস্থায় পুলিশের চোখে পড়ে। তারপর গুন্ডারুপি পুলিশ তাকে বেধড়ক মারে এবং তার কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ছুড়ে ফেলে দেয়।

এই পুলিশি অত্যাচারের পর থেকে গ্রামের প্রায় সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়ন আছে যারা গ্রামের কোনো মানুষ দেখলেই হিংস্র হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ছে তার ওপর।

ভুল করে স্থানীয় সফিক মন্ডল নামের এক ব্যক্তি পুলিশের ভয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আসাদুদ্দিন মণ্ডলের বাড়িতে যখন আশ্রয় নিয়েছিল, ঠিক সেই সময় পুলিশি গুন্ডারা ওই বাড়িতে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে যাতে ভয় পেয়ে সফিক মন্ডল বাড়ির পিছনের পুকুরে গিয়ে পড়লে পুলিশি হায়েনারা পাথর ছুড়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। সে এখন স্থানীয় এক বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চোরের মায়ের বড়ো গলা কথাটা সত্য প্রমাণিত করে পুলিশ এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ জন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করেছে এবং প্রায় ৯০ জনের নামে এফআইআর করেছে। (কেস নম্বরঃ 989/20 dt. 12.05.2020 v/s 333/353/325/326/307/427/120B IPC 4 PDPP ACT)  ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষে ও অসাম্প্রদায়িক পশ্চিমবঙ্গে যাদের হাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত আছে তাদের মধ্যেই যে উগ্র সম্প্রদায়িকতার বীজ নিহত আছে তা উৎপাটিত না হলে মুখ্যমন্ত্রী যতই দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার কথা বলুক তা কাজে আসবে কারণ সরষের মধ্যেই তো আছে বড়ো ভুত ।