দখল করা ভারতীয় ভূখণ্ড ফেরত দিতে নারাজ চীন : নিজেদের ভূখণ্ড কি চীনকে ছেড়ে দিল ভারত ?

সাইফুল্লা লস্কর :  কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কয়েক দিন আগে জনসমক্ষে মেনে নিয়েছিলেন বহু সংখ্যক চিনা সেনারা লাদাখের ভিতরে প্রবেশ করেছে এবং ভারত সরকার তাদেরকে সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য আলোচনার পথে অগ্রসর হচ্ছে। তবে ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং বিশিষ্ঠ  সাংবাদিক অজয় শুক্লা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লিখেছেন চিনা সেনারা সেনারা ভারতের আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেনা। বিশেষ করে তারা গালওয়ান উপত্যকা অঞ্চলের ব্যাপারে কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয় বলে মনে হচ্ছে যেখানে তারা ৩ থেকে ৫ কিমি ভিতরে অবস্থান করছে এক মাসের অধিক সময় ধরে।

ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে চিনা ফৌজ সরাসরি গালওয়ান উপত্যকার ব্যাপারে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে যেখানে তারা মধ্য এবং উত্তর লাদাখের মধ্যে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ দারবুক শ্যয়ক দৌলতবাদ ওল্ডীর রোডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

তুলনামূলকভাবে তারা প্যাঙ্গং হ্রদের ব্যাপারে আলোচনায় বেশি আগ্রহী মনে হচ্ছে। পাঙ্গং হ্রদ অঞ্চলে, পূর্বে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত নজরদারি কিন্তু এখন ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ থেকে ৪ এর মধ্যেকার এলাকা চিনা সেনার দখলে যেখানে তারা ইতিমধ্যে একটি সড়ক পথ নির্মান করে ফেলেছে। ভারতীয় সেনারা এখন ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ পর্যন্ত নজরদারি চালাচ্ছে। সেই সবুজ ভূখণ্ডে এখন একটা চিনা পতাকা উড়ছে। চীনের এই আগ্রাসী অবস্থানের মাঝে নতুন প্রকাশিত মানচিত্রে নিজেদের সীমানা ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ এর পরিবর্তে ৪ পর্যন্ত বলা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে ফলে ভারতের পূর্ব লাদাখের সীমানা অর্থাৎ এলএসি অনেকটাই পশ্চিম দিকে সরে গিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভারত কি তাহলে চীনকে নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিল? চীন ইতিমধ্যেই লাদাখের অন্তত ৬০ কিমি ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দখল কায়েম করেছে।

সিকিমের নাথুলা অঞ্চল থেকেও চীন এখনও নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করেনি। তবে ভারতীয় সেনা বিশ্বাস করে যেহেতু এই অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক ভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা আছে তাই তারা অবশ্যই এখন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।