কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল উত্তর ২৪পরগনার বারাসাত

সাইফুল্লা লস্কর : বৈধ অবৈধ নানা ভাবেই পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে পরিযায়ী শ্রমিকরা। প্রয়োজন হয়ে পড়ছে নতুন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের। সেই কারণেই উত্তর ২৪পরগনার বারাসাতের সান্ধ্য কলেজে খোলা হয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার এবং এই সেন্টারকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ।
এমনিতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের স্রোত ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নিয়ে তৈরি হয়েছে আরও বড়ো আতঙ্ক। দফায় দফায় বিক্ষোভে উত্তাল উত্তর ২৪  পরগনা জেলার বারাসাত।
এলাকা বাসীর প্রশ্ন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন নিয়ে আসা হল পরিযায়ীদের পরীক্ষার জন্য?  কেনই বা সেখানে খোলা হল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার? প্রশ্ন বানের উপর পালটা প্রশ্ন বারসাত পুরসভা শাসকের, রিপোর্টে যাদের মধ্যে আক্রান্তের কোনো উপসর্গ অর্থাৎ নেগেটিভ, শুধু তাঁদেরই তো কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হচ্ছে, তাহলে ভয়ের কী আছে? 

মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরল, দিল্লি-সহ আরও নানা  রাজ্য থেকে ফিরে আসছেন শ্রমিকরা। তাদের জন্য কয়ারেন্টাইন সেন্টার বা নিভৃতবাস কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে পরীক্ষার জন্য।  তবে উত্তর ২৪ পরগনার মতো এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

ভীনরাজ্য থেকে ফেরা উত্তর ২৪ পরগনাবাসীদের পরীক্ষার ব্যাবস্থা করা হয়েছে বারাসাত সেটডিয়ামে। যাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে হসপিটালে এবং নেগেটিভদের রাখা হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। বারাসতের সান্ধ্য কলেজের এই সেন্টারকে ঘিরেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে দফায় দফায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ ও গণআন্দোলন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের আশেপাশে রয়েছে ঘন বসতি, অন্যদিকে যেখানে সর্ব প্রথম স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই জায়গাটাও ঘন জন বসতিপূর্ণ। সুতরাং উভয় স্থানেই আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে পড়েছেন, কোথাও কোথাও রাস্তার উপর ডালপালা দিয়ে রাস্তা অবরোধের ঘটনা ও নজরে আসছে। 

এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা কংগ্রেস নেতা দিপক দাশগুপ্তের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁর নেতৃত্বে বারাসত সান্ধ্য কলেজের সামনে ১১ নম্বর রেলগেটে শুক্রবার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় যশোর রোড থেকে বারাসাত স্টেডিয়াম যাওয়ার হাটখোলা এলাকার রাস্তা।১১ নম্বর রেলগেট এবং হাটখোলা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রবল ভাবে। প্রাক্তন কাউন্সিলরের বক্তব্য হল, যারা ভীনরাজ্য থেকে ফিরছে তাঁদের ৮০ শতাংশই কোভিড পজিটিভ। তা স্বত্ত্বেও কেন তাঁদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢোকানো হচ্ছে? 

কিন্তু বারাসাত পুর প্রশাসক বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলছেন, বিক্ষোভকারীদের মানবিকতা বা সহানুভূতিবোধ কোনোটাই নেই, বরং সুনীলবাবুর অভিযোগ, দিপক দাশগুপ্ত তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরন করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা প্রথমে কোয়রান্টিন জোন শহরের ভিতরে বানাইনি। তবে পরিযায়ী দের সংখ্যা বাড়ার কারণে মহাকুমা শাসকের চিঠি পেয়ে এই সেন্টার তৈরি করতে হয়। তবে কোনো ফাকা জায়গায় সেন্টারটি তৈরি করা যায় কি না আমরা তাও ভাবছিলাম, কিন্তু আমাদের সময়ই দিল না।’’

প্রশাসক সুনীল মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এই সেন্টারটি কেবল বারাসাত বাসীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু  বিক্ষোভকারীরা এই বক্তব্য মিথ্যা বলে অভিযোগ করেন।তাদের কথা অনুযায়ী বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিককে এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হচ্ছে এবং সামাজিক দূরত্ব না মেনে তারা অবাধে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছে যা স্থানীয়দের ভীতির মূল কারণ বলে জানা যাচ্ছে।