দিল্লি দাঙ্গায় মুসলিমদেরকে লক্ষ্য করে তদন্ত,বিচারকের ধমক দিল্লি পুলিশকে

দিল্লিতে গেরুয়া বাহিনীর তান্ডবে তছনছ হয়ে যাওয়া মসজিদের চিত্র

সাইফুল্লা লস্কর : এই বছর ফেব্রুয়ারিতে সংঘঠিত উত্তর পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় দিল্লি পুলিশ শুধু মাত্র এক পক্ষকে টার্গেট করে তদন্ত চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করে আমির শাহের দিল্লি পুলিশকে কড়া ধমক দিল দিল্লির এক বিশেষ কোর্ট।

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থী আসিফ ইকবাল তানহার ৩০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি চলাকালীন দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশন বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা বলেন, “কেস ডাইরি থেকে অনেক অপ্রীতিকর সত্য সামনে এসেছে, তদন্ত দেখে মনে হয় একটা নির্দিষ্ট পক্ষকে টার্গেট করে তদন্ত করা হচ্ছে। দাঙ্গায় ওপর পক্ষের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কি তদন্ত করা হয়েছে তা জানতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী ইন্সপেক্টর লোকেশ এবং অনিল।”
বিচারপতি রানা সংশ্লিষ্ঠ পুলিশ কমিশনারকে এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং তদন্তের গতবধর ওপর নজরদারি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।তানহার আইনজীবী বিচারপতির এই মন্তব্য  অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

মসজিদের মিনারে উঠে গেরুয়া বাহিনীর ভাগোয়া পতাকা লাগানো থেকে মুসলিম অধিবাসী এবং ব্যাবসায়ীদের ওপর পুলিশের প্রচ্ছন্ন মদতে আক্রমণ বা জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতে ছাত্রদের ওপর পুলিশের নির্বিচার লাঠি চার্জ সব ক্ষেত্রেই একটা নির্দিষ্ট পক্ষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এই দাঙ্গায় পুলিশ এক পক্ষের হয়ে সর্বদা কাজ করেছে বলে শুরু থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে।

উল্লেখ্য গতসপ্তাহে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করে তানহাকে। এছাড়াও দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস কাউন্সিলার ইশরাত জাহান, বিশিষ্ট সমাজ কর্মী খালিদ সাইফি, জামিয়ার ছাত্রী সফুরা জরগার সহ আরো অনেককে যারা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল নাগরিকতা সংশোধনী বিল নিয়ে। বেছে বেছে মুসলিম ছাত্র ছাত্রী, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ কর্মীদের গ্রেফতার করা হলেও দিল্লি পুলিশ একটা এফ্যাইয়ার পর্যন্ত দায়ের করতে  পারেনি দিল্লি দাঙ্গার মূল উস্কানি দাতা কপিল মিশ্র বা অনুরাগ ঠাকুর দের বিরুদ্ধে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বা বিজেপি সরকারের হাতে থাকা পুলিশ বাহিনী যে তাদেরই সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সর্বক্ষেত্রে তাদের বি- টিমের ভূমিকা পালন করে তা দিল্লির এই কোর্টের রায়ে আবার স্পষ্ট হয়ে গেলো।