
লি ট ন রা কি ব
গত কয়েকদিন ধরেই চোখে ভাসছে সারা দেশজুড়ে লক্ষ্য লক্ষ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের অসহায় বিধ্বস্ত মুখগুলো। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছি কিন্তু কিছুই করতে পারছি না।বোধ, বুদ্ধি-বিবেক সব মাথা কুটে কুটে মরছে নিজের মধ্যেই! বড্ড কষ্ট হচ্ছে। ওরা আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না।
ওরা আমার স্বজন। লকডাউনকে উপেক্ষা করে কাতারে কাতারে মানুষ দিল্লি মুম্বাই জোড় হয়েছে। বাচ্চাকে ঘাড়ে নিয়ে, অসুস্থ মাকে কিংবা সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর হাত ধরে পোঁটলাপুটলি সমেত শত শত মাইল পায়ে হেঁটে কেউবা আবার সাইকেলে রওনা দিয়েছে বাড়ির উদ্দেশ্যে। এরা সকলেই আমার চেনা মানুষ; কাছের মানুষ। ছোটবেলার খেলার সাথী, কেউবা আবার সহপাঠী গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের, আবার কেউ কেউ আমাকে মানুষ করেছে, কেউবা আবার আমাদের বাড়িতে চাষের কাজ করেছে।
কবে যেন এরা সব গ্রাম থেকে হারিয়ে যেতে লাগলো। জীবন জীবিকার সন্ধানে পাড়ি দিল ভিনরাজ্যে। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে দিল্লি, মুম্বাই, কেরল, হরিয়ানায় পাড়ি দিল।
আগুন তো আমারই আবিষ্কার। আমার কোনো আঙুল যদি সে আগুনে কারো ঘর পোড়ায়, সে দায় আমারও। আমার কোন হাত তোমার মত কাউকে আঘাত করে বটে ;আবার সেই ক্ষত সারয়েও দেয়। তুমি কি দেখোনি পারমাণবিক শক্তি দিয়ে মরুভূমির বুকে সবুজ পতাকা উত্তোলন। কালাজ্বর, জলাতঙ্ক, ম্যালেরিয়া, পোলিও, ক্যান্সার, কলেরা,বসন্তের মতো আতঙ্ককেও রুখেছে মানুষ। করোনাকেও রুখবে মানুষ।
দেখছোনা চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রান দিয়েও মানুষের পাশে রয়েছে। মনে রেখো, মায়া-মিশর,হরপ্পা-মহেঞ্জদারো গড়েছি আমরা আবার ত্যাগও করেছি। আমি তো মানুষ নিত্য নতুন গড়ে তোলাই আমার কাজ। আর এই পথ চলাতেই আমাদের এগিয়ে যাওয়া গোটা ভারতবর্ষকে সঙ্গে নিয়েই…