
সাবিরউল্লা,ক্যানিং,০৪-০৪-২০২০:বর্তমান বিশ্বে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের প্রকোপ পশ্চিমবঙ্গ সহ সমগ্র ভারতবর্ষে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় সরকার সতর্কতা জারির পাশাপাশি লকডাউন-এর সময় সীমাও পুনরায় বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে দুঃস্থ,গরিব,খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষদের অসহায়তাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহৃদয় ব্যক্তিগণ এই সব অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অসহায় পরিস্থিতি কিছুটা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমনিই এক মহৎ কাজের স্বাক্ষী থাকলো চুনাখালির মতো সুন্দরবনের এক প্রত্যন্ত এলাকা।যেখানে অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিন মজুরের কাজ করতে গিয়ে লকডাউনের ফলে বাড়ি ফিরতে পারেননি,এমন অনেক পরিবার যাদের অনেকেই গরিব রিক্সা চালক,অটো চালক যারা প্রতিদিনের রোজকার দিয়ে তাদের সংসার চালায় অর্থাৎ দিন আনে দিন খায়।এই রকম প্রায় ৫০০ দুঃস্থ মানুষের মধ্যে চাল,ডাল,ময়দা,তেল সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন “বাসন্তী চুনাখালী এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন”-এর কর্ণধার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাসেমী। এছাড়াও তিনি প্রত্যেকের হাতে তুলে দেন “মাস্ক ও স্যানিটাইজার”।

এদিন মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাসেমী বলেন ‘সুন্দরবনের মানুষের পাশে,সুন্দরবনের উন্নয়নের জন্য বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করে থাকি। করোনা ভাইরাসের মতো মহামারীতে সুন্দরবনের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।এই রকম পরিস্থিতিতে যখন ইতালি, ইরানের মতো দেশে মানুষের মৃত্যু মিছিল চলছে, তখন আমাদের দেখতে হবে আমাদের একজন ভাই-বোন যেন না খেতে পেয়ে মারা না যায়।এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষজন যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে,এমন অনেক পরিবার যাদের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে, এছাড়াও অনাহারে না খেতে পাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরে এবং তাদের হাতে সামান্য কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে’।