পুজোর মরশুমেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ব্যাপকভাবে নারী-শিশু পাচারের অভিযোগ

Human-Trafficking

দিনকাল ডেস্কঃ একদিকে যখন পুজোর আনন্দে মানুষ মাতোয়ারা, সেই পুজোর মরশুমেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে ব্যাপক হারে নারী ও শিশুপাচার হয়ে যাচ্ছে। কিছুটা দারিদ্রতা, আবার মুম্বাই ফিল্মের রূপালী পর্দার নায়িকা করার প্রলোভন দেখিয়ে যেমন এরাজ্য থেকে নারী পাচার হয়ে যাচ্ছে ভিন রাজ্য ও ভিন দেশে, তেমনি একটি শিশুর কিডনি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা মুনাফা আদায়ের জন্য নারী ও শিশু উভয়ই এরাজ্য থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযোগের তির পুলিশ-প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী-শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের অফিসারদের একাংশের দিকে। নারী-শিশু পাচার উদ্ধারসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত বেশ কিছু এনজিও-এর দাবী, ১২ মাসই এরাজ্য থেকে নারী পাচার হয়। নদীপথে ও রেলপথে এই পাচারগুলি হয়। আর এই নারী শিশু পাচারে যুক্ত খোদ সমাজ কল্যান দপ্তরের অনেক অফিসার, পুলিশ, কাস্টম অফিসার, জিআরপি এবং আরপিএফ-এর অফিসাররা। শিশুর কিডনি ও অন্তঃসত্বা মহিলার গর্ভপাত করে সেই শিশুর কিডনি চড়া দামে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে পাচারকারীরা। পাচার করা মহিলাদের একাংশ মুম্বাই ফিল্মের রুপালীও পর্দার নায়িকা করার পরিবর্তে পুণে, নাসিক ও মুম্বাইয়ের নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করা হয়। একসময় সিপিআই-এর সাংসদ গুরুদাশ দাশগুপ্ত এদের উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনেন। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে নারীপাচার দক্ষিন ২৪ পরগণার সুন্দরবন এলাকা থেকে। এদের বেশীরভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগণা, দুই বর্ধমান, দুই মেদিনীপুর, দুই দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, নদীয়া, শিলিগুড়ি থেকে ব্যাপকহারে নারী-শিশু পাচার হয়।