
প্রথম কবিতা
পেছনে গড়ছে চাকা
পঞ্চগব্ব পঞ্চগুনে
গো-মূত্র ঔষধ গুণে
গো-পূজীত ভগবান,
যোনি পূজা লিঙ্গ পূজা
মুক্ত করতে শনির দশা
চলে মানুষ বলিদান।
গরু মরলে কবরে নয়
দাহ করবে শ্মশানে,
গো-পালন হবে শুধুই
হিন্দুর গৃহ কোনে।
দেবতারা যেত গ্রহে
ত্রাতাযুগে রকেট চড়ে,
চিকিৎসাতে ছিল সার্জারি
হাতির মাথা গণেশ ঘাড়ে।
দ্বিতীয় কবিতা
সাবধান
ফ্যাসিবাদীর কালো থাবা
পড়লো জম্মু কাশ্মীরে,
হৃদপিন্ড ছিঁড়ে ফেললো
গণতন্ত্রের বুক চিরে।
মারনাস্ত্র আর রোলার বুটে
জম্মু কাশ্মীর বদ্ধভূমি,
গণহত্যার রণহুংকারে
আতঙ্কিত জন্মভূমি।
বিশ্ব সভায় প্রসংশিত
দেশের গর্ব সংবিধান,
ভন্ড নেতাদের সিদ্ধান্তে
এক লহমায় হল ম্লান।
জানমাল আর মাটি রক্ষায়
এমনিতেই ওরা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ,
বুঝেছে তারা চরম সময়
উঠবে এবার গরম রক্ততরঙ্গ।
তৃতীয় কবিতা
দুঃশাসন
মসনদে অপদার্থরা
সুশাসন ব্যর্থ দিতে,
ভরে গেছে দেশ অশান্তিতে
জনতা আজ রাজপথে।
ব্যর্থতা ঢাকবার তরে
অস্ত্র এখন বিভাজন,
মেকি দেশপ্রেম প্রদর্শনে
হয় যদি ক্ষোভ প্রশমন।
সুযোগ বুঝে গায়ের জোড়ে
সংবিধানে কোপ মেরে,
দেশের সেবা করবে তারা
নিরীহ মানুষ নাশ ক’রে।
চতুর্থ কবিতা
গভীর সংকটে দেশ
মেধাবী অতনু মিস্ত্রি
প্রবল অর্থসংকটে,
আত্মাহুতি দিল
চরম বেকারত্ব ঘোঁচাতে।
এম.এ ডিগ্রীর প্রতিবন্ধী
অতি কষ্ট ক’রে,
ট্রেনের হকার হ’য়ে
বেরাই ঘুরে ঘুরে।
শহরে অশীতিপর দম্পতি
কুমারী গবেষক মেয়ে,
ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে
আবেদন স্বেচ্ছা মৃত্যুচেয়ে।
বেরোজগারের যাঁতাকলে
ছাঁটাই কর্মীর সংসার,
আশার আলো অন্তরালে
শেষে জীবন সংহার।
চতুর রাজা সিংহাসনে
সময় মতো চাল চালে,
ব্যর্থতাকে আড়াল করতে
সবার চোখে জাল ফেলে।
মেকি ধর্মের সুড়সুড়িতে
সামনে আনে রামমন্দির,
মেকি দেশপ্রেম সুড়সুড়িতে
লাদাখ জম্মু কাশ্মীর।
কবি মহাম্মদ রাকিম সেখ মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। সামাজিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার পরেও তিনি কবিতা লিখে চলেছেন। তার কবিতায় প্রান্তিক মানুষ থেকে দেশের বর্তমান অবস্থা সহ নানান বিষয় ফুটে ওঠে। কবির সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করতে পারেন এখানে ক্লিক করে।