দিনকাল ডেস্কঃ

বাংলাদেশ সরকার হিন্দু ইতিহাস- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করছে, কলকাতায় ঠিক তার বিপরীত । কলকাতা শহরের মুসলিম ইতিহাস – ঐতিহ্যগুলি ক্রমশই লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । আবার কোনোটি সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায় ।অবিভক্ত বাংলার তিন প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী । এরা থাকতেন কলকার পার্কসার্কাস এলাকায় । পার্কসার্কাসের ঝাউতলা রোডের একে ফজলুল হকের বাড়ি কার্যত সংরক্ষণের অভাবে ধুকছে। খাজা নাজিমুদ্দিনের একটা বড় অংশ এখন বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের অফিস। অন্যদিকে কলামন্দির সংলগ্ন থিয়েটার রোডের বাড়ি আজ প্রমোটার কবলে পড়ে আজ তা মার্কেট কমপ্লেক্সে পরিণত । পার্কসার্কাস সাতমাথার কাছে তিন নম্বর সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ে অবস্হিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য হাসান সোহরাওয়ার্দীর বাড়ি । ওয়াকফ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকলে এটির সেভাবে সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে এখানে রয়েছে বাংলাদেশ তথ্য কেন্দ্র ও লাইব্রেরি । হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মামা। বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত নবাব আব্দুল লতিফ । ফরিদপুরের ভূমিপুত্র নবাব আব্দুল লতিফের তালতলা বাড়ি আজ সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে । অবিভক্ত বংলা ও বিভক্ত বাংলার আইনসভার স্পিকার ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় মুসলিম উপাচার্য অধ্যাপক স্যার আজিজুল হকের রডন স্ট্রিটের বাড়ি আজ লুপ্ত। এইভাবেই কলকাতার মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্য নষ্ট হতে চলেছে।

