ছেলেধরা গুজবে কান দিয়ে অচেনা পথচারীকে আক্রমণ, মৃত ১

ছেলেধরা গুজবে কান দিয়ে অচেনা পথচারীকে আক্রমণ, মৃত ১

কিছুদিন থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগণা এলাকা জুড়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের দৌলতে ডায়মন্ড হারবার থেকে শুরু করে মগরাহাট সহ সমস্ত শহরে গুজব ছড়িয়েছে এলাকাতে ছেলেধরার এসেছে। যারা ভুলিয়ে ভালিয়ে ছেলেকে নিয়ে গিয়ে কিডনি কেটে নিচ্ছে বাঁ পাচার করে দিচ্ছে।

আজ এই গুজবের জেরেই প্রাণ হারাল এক নিরীহ পথচারী। এছাড়াও সারা জেলা জুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশাল বাহিনী। জেলে গেছে সাধারণ মানুষ।

পরিস্থিত বেগতিক দেখে পুলিশ বাধ্য হয়ে প্রচারে নামে যে গুজবে কান দেবেন না। কোন ছেলেধরা আসেনি। আপনারা গুজবে কান দিয়ে অপরিচিত পথচারীকে আক্রমণ করবেন না। কোন সন্দেহ হলে পুলিশ কে জানান।

সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো শ্বশুরবাড়ির যাওয়ার জন্য, অন্য জন কলকাতা থেকে এসেছিলো শালার শ্বশুর বাড়ি। ইবরাহীম খান ও অনিমেশ দুজনের নতুন মুখ দেখে সন্দেশ হয় এলাকাবাসিদের। দুজনকে বেধড়ক মারে গ্রামবাসিরা ঘটনাটি ঘটে মগরাহাট থানার আতাসুরা এলাকায় স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইবরাহীম খান (৩৫) বাড়ি মগরাহাট এলাকার দক্ষিণ বিলেন্দরপুর গ্রামে ও অনিমেষের বাড়ি নৈহাটিতে। এদিন সকালে ইবরাহীম খান বাড়ি থেকে বের হয় চালতাবেড়িয়ায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য। অন্যদিকে নৈহাটি থেকে অনিমেষ আসে শালার শ্বশুর বাড়িতে। সকালে দুজনকে রাস্তায় নতুন দেখে গ্রাম বাড়িরা বেধড়ক মার মারে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মগরাহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুজনের অবস্থার অবনতি হওয়ার জন্য তাদের কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় মগরাহাট থানা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পৌঁছায়।

পুলিশ পৌঁছালে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। আশেপাশের লোক চিনতে পারে চিনতে পেরে ইব্রাহিম খান  এর বাড়িতে খবর পাঠায়। তখনই এলাকাবাসী ছুটে আসে এসে উদ্ধার করে।

একই ঘটনা মুলটি বাণী বেরিয়া অপরিচিত ব্যক্তি পেশায় ফেরির কাজ করতো সকাল আটটার সময় মুলটি স্কুলের পাশ থেকে পিছনের এক বাদায় টয়লেট করতে যায় সে। এলাকাবাসীদের সন্দেহ হওয়ায় বেধড়ক মারতে শুরু করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছলে তাকে উদ্ধার করে মগরাহাট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আসে আসার পরে দেখা যায় মৃত মৃত ওই ব্যক্তির কোন নাম খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না মগরা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে মগরাহাট ওসি জানান সম্ভবত ওই ব্যক্তির বাড়ি উড়িষ্যায়। বডিটা ডায়মন হারবার হাসপাতালে পোস্টমরটেম এর জন্য পাঠায় ।

পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে আছে বলে জানাচ্ছেন মফিজুল খান। মাওলানা মাসুদ আহমেদ কাসেমী বলেন আমরা দীর্ঘ 50 বছর মগরাহাট এ বাস করি আমরা হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান সবাই একে অপরের সঙ্গে থাকি। আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই। কিন্তু আজকে এমন কঠিন দিকে সমাজটা এসে গেছে যে চলাফেরা করতে গেলেও মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকছে।

কিছু মানুষ এই গুজবকে রাজনৈতিক নেতারা তাদের ফায়দা লাভের জন্য ব্যবহার করতে চাইছে বলে জানান স্থানীয়রা। হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকের ছবি দেখে মানুষ আরো আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। মাঝে মাঝে অবস্থা এমন হয়ে হচ্ছে যা সর্ব ধর্ম সহবস্থানে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয়রা সরকারের কাছে দাবী জানান যারা এই সব ঘটনা কে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।