জিহাদের অর্থ যুদ্ধ নয়, লক্ষ্যের অভিমুখে সংগ্রাম

~অলবিরুনী

মৌলবাদী/আতংকবাদীরা হামেশাই ‘জিহাদ’ শব্দটিকে এমনভাবে ব্যবহার করে, যাতে মনে হয় যেন ‘জিহাদ’ যুদ্ধের প্রতিশব্দ। প্রকৃতপক্ষে এর থেকে বেশী অপব্যাখা আর হয় না। এই আরবী শব্দটির আসল অর্থ হলো, কোনও স্থির লক্ষ্য রেখে তার জন্য নিজের সর্বশক্তি দিয়ে সংগ্রাম করা। একজন প্রকৃত জ্ঞানী মুসলিম মাত্রই জানেন, জিহাদের বহু ক্ষেত্র আছে, যেমন হৃদয়, জিব্‌হা, হস্ত এবং সবচেয়ে অন্তিম পর্যায়ে আসে তলোয়ারের ব্যবহার, আগ্রাসী অত্যাচারী শক্তির মোকাবিলায়। ইসলাম, অন্যদিকে, ধর্মের নামে যেকোনও রকম হিংসার সর্বোতভাবে বিরোধী। মানবধর্মের উপরে কোনও ধর্ম নেই, তাই অন্য সব ধর্ম যারা পালন করেন, তাদের সুরক্ষিত রাখাও ইসলামেরই নির্দেশ।

কোনও মানুষের হত্যা ইসলামে নিষিদ্ধ (আল কুরআন ১৭:৩৩, ৬:১৫২)। শুধু তাই নয়, মানবহত্যার পাপ যে কতখানি গভীর, তা নির্দিষ্ট-একজন নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করার অপরাধ সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার অপরাধের চেয়ে কম নয় (আল কুরআন ৫;৩২)। এতদসত্ত্বেও বিদগ্ধ আলেম উলামাদের একাংশ সমাজে জিহাদের সম্পর্কে আংশিক সত্য অথবা একেবারেই ভ্রান্ত কিছু ধারণার প্রসার করে চলেছেন, এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে? এর দুটি কারণ থাকতে পারে- এক, তাঁরা নিজেরাই যথেষ্ট শিক্ষিত/সচেতন নন, অথবা তাঁদের শিক্ষা অসম্পূর্ণ। দুই, কোনও উগ্রপন্থী/মৌলবাদী সংস্থার প্রভাবে তাঁরা এমনটা করছেন।

এমনকি যুদ্ধের সময়েও, ইসলামের নির্দেশ আছে সীমা লঙ্ঘন না করার, সম্পত্তি তথা উপাসনার স্থান নষ্ট না করার, আবালবৃদ্ধ-বনিতাকে আক্রমণ না করার, সবুজ/ফলদায়ী বৃক্ষ কেটে না ফেলার। নবীর সমকালীন ইসলামের ইতিহাসে এমন একটিও নজির নেই, যেখানে এই নির্দেশগুলির একটাও লঙ্ঘিত হয়েছিল। ইসলাম শান্তির, সুবিচারের বাণী শুনিয়েছে চিরকাল, “বিচারের ফল যদি বিপক্ষেও যায় তাতেও প্রকৃত বিশ্বাসী সুবিচারের পক্ষেই থাকবে (আল কুরআন আয়াত ৪;১৩৫)। অন্য এক জায়গায় ইসলামের নির্দেশে ‘কোনও সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না (কুরআন ৫;৮)। অর্থাৎ, কোনও ধর্মের প্রতি ঘৃণা যেন প্রকৃত মুসলিমকে অন্যায়ের পথে প্ররোচিত না করে, তাকে সুবিচারের পথ থেকে সরিয়ে না নিয়ে যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে জিহাদ হল নিজের অন্তরের শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই, শান্তি, সুবিচারের লক্ষ্যে সংগ্রামই জিহাদ।