
‘উদার আকাশ-ঈদ উৎসব ও মহিষাসুর স্মরণ সংখ্যা ১৪২৫’ পত্রিকায় মননশীল উপন্যাস ‘একাল-সেকাল’ কথাসাহিত্যিক ওয়ালে মহম্মদ-এর শেষ সাহিত্যকৃতি
কথাসাহিত্যিক ওয়ালে মহম্মদ অমৃতলোকে। গত ২৬ ডিসেম্বর ৩ টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জন্ম, ২ বৈশাখ ১৩৬২ বাংলা সাল। কিছুদিন আগে মারনরোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরদিন জোহরের পর তাঁর পৈতৃক নিবাস দক্ষিন দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার পুলিন্দা গ্রামে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাম বাংলার আবহমান লৌকিক জীবনকাহিনী এবং বিশেষকরে উত্তরবঙ্গের জনজীবন, তাঁদের মুখের ভাষা ও যাপিত জীবনের চিত্রায়নে তিনি ছিলেন এক দক্ষ শিল্পী। মুখ্যত লিটল ম্যগাজিন ও সাময়িক পত্রে তিনি নিয়মিত গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন। কলকাতার কলম, নতুন গতি, বুলবুল, নবান্ন, উদার আকাশ, যুব প্রত্যাশা-সহ বহু পত্রপত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখেছেন।
তাঁর প্রয়াণের খবর শুনে বাড়িতে বহু গুণগ্রাহীর ভিড় জমে। মুসলিম সমাজ জীবনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশি সমাজের অন্দরমহলও অচেনা ছিল না তাঁর। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণের কাহিনী, ইসলামি ইতিহাস, কারবালার কাহিনী প্রভৃতিতে তাঁর স্বচ্চন্দ বিচরণ ছিল। অনায়সেই তিনি এসব মিথ ও ইতিহাসকে নিজ সৃষ্টিতে জারিত করতেন। কৈশোর ও যৌবনে আসর মাতিয়েছেন কবিগান গেয়ে এবং সেখান থেকেই নিয়েছেন জীবনের পাঠ।
কলকাতার করুণা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত গল্প গ্রন্থ “বিষবংশ” (২০০৭), উপন্যাস ‘প্রতিশোধ’ (২০০৯) ও ‘প্রতীক্ষা'(২০১২) তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘উদার আকাশ-ঈদ উৎসব ও মহিষাসুর স্মরণ সংখ্যা ১৪২৫’ পত্রিকায় এক মননশীল উপন্যাস ‘একাল-সেকাল’ তাঁর সম্ভবত শেষ সাহিত্যকৃতি।
পেয়েছেন বেশ কয়েকটি সম্মাননা ও পুরস্কার : উজাগর সাহিত্য পত্রিকার বিশেষ সম্মাননা ( ২০০৯ ), বুলবুল পত্রিকার সদভাবনা পুরস্কার’ ( ২০০৯ ), আব্দুল জব্বার স্মৃতি পুরস্কার ( ২০১২ ), রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার ( ২০১১ ) প্রভৃতি।
