মুসলিম ব্রাদারহুডের ৭৫ জন কর্মীকে মৃত্যুদন্ডের সাজা শোনাল মিশর

আরব বসন্তের কথা মনে আছে আপনাদের! ২০১১ সালে শুরু হওয়া সেই আরব বসন্তের পর একনায়কতন্ত্র শাসকের পতন ঘটেছিল। লিবিয়া থেকে শুরু করে মিশর ও সিরিয়া।

২০১২ সালে মিশরের স্বৈরাচারী শাসক হোসনি মুবারকের পতন ঘটলে মিশরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত গণতান্ত্রিকভাবে জিতে মুসলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায় আসে। মুহাম্মদ মুরসী হন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু বছর না ঘুরতেই মিশরের জেনারেল আল সিসির বিশ্বাসঘাতকতা ও গণতন্ত্রের ভেকধারী পশ্চিমা শাসকদের সহায়তায় জনগণের দ্বারা নির্বাচিত মুহাম্মদ মুরসি কে উৎখাত করা হয় এবং জেনারেল আল সিসি ক্ষমতা দখল করে। এই সামরিক অভ্যুথানের বিরুদ্ধে মিশর সহ সারা বিশ্ব জুড়ে গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

 

আল সিসি ক্ষমতা দখলের পরেই মুসলিম ব্রাদারহুড কর্মীদের উপরে উৎপীড়ন শুরু করে, শুরু করে ধড়পাকড়। কয়েকশো সমর্থক কে হত্যা করে আল সিসির বাহিনী, গ্রেফতার করে কয়েক হাজার কর্মীকে। শুধু তাই নয় মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিসিদ্ধ করে আল স্বৈরাচারী সরকার।

আজ এই সরকার ন্যায়ভাবে জিতে ক্ষমতায় আসা দলের লোকেদের কে বিচারে মৃত্যুদন্ড দিচ্ছে! বিচারের নামে প্রহসন এর থেকে আর কিইবা হতে পারে।

মিথ্যা দাঙ্গার অভিযোগে ফাসিয়ে স্বৈরাচারী আল সিসি ও তার পশ্চিমা সাঙ্গপাঙ্গ মিলে সত্যকে দাবাতে চায়ছে আর তাই ৭৫ জন কর্মীকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দিয়েছে মিশরের আদালত।

এই রায়ের বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিশ্বের নানা দেশের নানান সংস্থা এই রায়ের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে এবং এই রায় কে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আমরা দিনকাল মিডিয়ার পক্ষ থেকেও এই রায়ের বিরোধীতা করছি এবং অবিলম্বে সমস্ত মুসলিম ব্রাদারহুড কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানাচ্ছি।