সংঘের মনুবাদী হিন্দুত্ব

~প্রবীর নিয়োগী

মনুবাদ ও ব্রাহ্ম্যণ্যবাদ সমার্থক। সংঘ পরিবার যে হিন্দুত্ববাদের জয়গান করে তা ব্রাহ্মণ্যবাদ ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং তারা কখনই বৃহত্তর হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি হতে পারে না। শুধু হিন্দু ধর্ম নয়, এই ধর্মের মধ্যে যে ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতন্ত্রের ধারা বহমান সংঘ পরিবার তাকেই বরণ করতে বদ্ধপরিকর। সে ভাবেই তারা তাদের কর্মসূচি রুপায়ন করতে ব্যস্ত। নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীত্বের কালে এই প্রবণতা লাগামছাড়া হয়েছে। বয়কট, ভয় প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের প্রগতিশীলতার চিহ্নগুলি অবলুপ্ত করার প্রয়াস চলছে। দেশের এখন মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তা দুই-ই আক্রমণের মুখে। এই কয় বছরে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুক্তচিন্তার মানুষ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে নিহত হয়েছেন। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জ্যোতিরাও ফুলে এবং ভীমরাও আম্বেদকর ভারতে যে প্রগতির যে শিখাটি প্রজ্বলিত করেছিলেন তা এতদিন পর্যন্ত অনির্বাণ ছিল। মোদি যুগে সেই সামাজিক ভারসাম্য ভেঙেচুরে খান খান হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা এখন ক্ষমতা দন্ডের ধারক নাহক। তারাই গোটা দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা ধর্ম ভেদের উপর শুধু ক্ষমতার ভর রাখতে সম্মত নয়, জাতিভেদ লিঙ্গভেদের উপরও তাদের ক্ষমতার অমোঘ দণ্ড কায়েম করতে প্রয়াসী।

যে মনুকে নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের এত মাতামাতি তিনি কে? কোন সময়ের মানুষ তিনি তা নিয়েও কিন্তু পণ্ডিত মহলে বিস্তর বিরোধ আছে। কেউ কেউ বলেন, মনু বলে কোনও নির্দিষ্ট মানুষের অস্তিত্ত্ব ছিল না। আবার কোনও কোনও পণ্ডিত বলেছেন, মনু কৌটিল্যের পরবর্তী সময়ের লেখক। মুরারী মোহ্ন শাস্ত্রী মনু সংহিতার অনুবাদ করতে গিয়ে বলেছেন ‘খৃষ্টাব্দ দিয়ে মনুর সময়কাল চিহ্নিত করা যায়না। কারণ খৃষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর রচনাকেও মনুসংহিতা থেকে উদ্ধৃতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে একটা ব্যাপারে পণ্ডিত মহল একমত, মনুসংহিতার যে পাঠ এখন হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে প্রচলিত আছে তার রচনাকাল খ্রীস্টিয় দ্বিতীয় শতাব্দী। ভারতে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রসার লাভের পর হিন্দু ধর্মের সনাতন বৈশিষ্টগুলি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তখনই হিন্দুত্ববাদীকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে সক্রিয় হয়। তারা মনুর ধারণা ও তত্ত্বকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা দিতে সচেষ্ট হয়। মনুসংহিতার ১২ টি অধ্যায় আছে। মোট শ্লোক ১৬৯৪টি। এর মধ্যে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে মনুর চিন্তা লিপিবদ্ধ থাকলেও আজকের অদ্বৈতবাদী বিজ্ঞানের যুগে তা কোনও মতেই প্রাসঙ্গিক হতে পারে না। এতদ্‌সত্ত্বেও হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার সেই মনুবাদকেই সাংবিধানিক বৈধতা দিতে তৎপর হয়েছে।

মনু বৈদিক বর্ণশ্রমের তত্ত্বকে আরো কঠোরভাবে পালনের বিধান দিয়েছিলেন। ওই চারবর্ণের সামাজিক বিন্যাস তত্ত্বে নিজস্ব কিছু বিধানও চাপিয়ে দিলেন। মনুর তত্ত্ব হল, সমাজ কল্যাণের জন্য চারটি সামাজিক একককে কঠোরভাবে পালন করতে হবে। মনুর মতে, আইনের বলবৎযোগ্যতার দুটি উৎস। একটি হল, পার্থিব জীবনে শাসকের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব। অন্যটি হল ব্যক্তি মানুষের কর্ম। রাজা বর্ণাশ্রম ধর্মকে ক্ষমতার সাহায্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। বিশেষ করে বৈশ্য ও শুদ্র শ্রেণীর মানুষকে কর্তব্য কর্মে নিযুক্ত থাকতে বাধ্য করবেন। পৃথিবীতে পাপের ফলে বর্ণ প্রথা ভাঙনের মুখে পড়বে তখন রাজা ওই প্রথা কায়েম রাখতে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এই কাজে সফল হলে রাজা অমরত্ব লাভ করবেন। মনুর ওই আদেশকে শিরোধার্য করে হিন্দুত্ববাদীরা দলিতদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। মোদির চার বছরের শাসনে ভারতে জীবনও সংকটাপন্ন হয়েছে।

যে বৈদিক যুগে সমাজে নারীদের বিশেষ ভূমিকা ছিল, মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ছিল সেই ব্যবস্থাকেই ভেঙে দিলেন মনু। বৈদিক যুগের নারীরা বেদের মন্ত্র রচনা করতে পারতেন সেই নারীকেই মনু ঘরবন্দি করে দিলেন। মনু বিধান দিলেন নারীরা সংসার ধর্ম পালন এবং সন্তান পালন ছাড়া অন্য কোনও কাজে কোনও অধিকার নেই। হিন্দুরা যখন থেকে মনুর তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা দিতে শুরু করল তখন থেকে বৈদিক যুগের সামাজিক কাঠামোটাই ভেঙে পড়ল। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবর্তিত হয়ে পড়ল। ফলে যে হিন্দুত্বের জন্ম হল তা ব্রাহ্মণ্যবাদ ছাড়া আর কিছু নয়। বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকার মনুর সেই সূত্র মেনে নারীদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ভারতীয় সমাজ আড়াই হাজার বছর আগে যে অবস্থানে ছিল সংঘ পরিবার সেই অবস্থানেই ফিরে যেতে চাইছে।

মনুর মতে, আইন সর্বদাই নির্দিষ্ট সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পরিবর্তন ছিল। তিনি চারটি যুগের কথাও বললেন, সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি। মনু বললেন, এই চার যুগে আইনের ব্যাখা ও কর্তব্য পরিবর্তিত হয়েছে। কোন যুগের কি কর্তব্য তাও তিনি বলেছেন। সত্য যুগের প্রধান ধর্ম তপস্যা, ত্রেতা যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য জ্ঞান, দ্বাপর যুগের বৈশিষ্ট যজ্ঞ, কলি যুগের একমাত্র বৈশিষ্ট্য মনু এমনভাবে চারযুগের বৈশিষ্ট্য মনু এমনভাবে করলেন যেন তিনি ওই চারযুগেরই প্রতিনিধি। ব্রাহ্মণ্যবাদকে তিনি কিভাবে প্রতিষ্ঠা দিলেন এবার দেখা যাক। মনু বললেন, যদি ধর্মীয় অনুশাসনের অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যায়, তার ব্যাখা খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে ব্রাহ্মণের শরণাপন্ন হতে হবে। মনুর ওই বিধানই হিন্দুত্ববাদীরা এখনো মেনে চলছে। ব্রাহ্মণদের করে কর্মে খাওয়ার একটা ব্যবস্থা তখন থেকেও চলে আসছে। দশজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করতে হবে। তারা ধর্মশাস্ত্রের যে ব্যাখা দেবেন তাই-ই অভ্রান্ত বলে মেনে নিতে হবে। ওই ব্যাখাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম ব অলে স্বীকার করতে হবে। যারা তা মানবেন না তাদের শাস্তির ব্যবস্থাও ওই পরিষদই করবে।

আরএসএস এবং হিন্দু মহাসভা যে হিন্দুরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে তার সংবিধান বলতে মনু সংহিতাকেই বোঝায়। যেমন ইসলামিক দেশে শরীয়তই রাষ্ট্রের সংবিধান, অনেকটা সেই রকম। অর্থাৎ, মৌলবাদী বা ধর্মীয় রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্রে তফাৎ কিছু নেই। মনু বোধকরি সবচেয়ে কঠোর ছিলেন নারীদের উপর। তিনি কট্টরভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। বিশ্ববরা, অপলা, লোপমুদ্রা, রক্ষবাদিনীর মত যে সব বিদুষী নারীকে আমরা বৈদিক যুগে পেয়েছিলাম তাদেরই মনু রান্না ঘরে ঢুকিয়ে দিলেন। বললেন, ‘নারী নরকের দ্বার’। সেই সূত্র মেনেই হিন্দুত্ববাদীরা সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের শবরীমালা মন্দিরে ঢুকতে বাঁধা দিচ্ছে। মনু বললেন, এই জন্মে যদি কোনও নারী পতি সেবা ও ব্রাহ্মণ সেবা না করে পরজন্মে তার পশু যোনীতে জন্ম হবে। এখানে একটা জিনিস লক্ষণীয় মনু পতি সেবার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণ সেবাও করতে বলেছেন নারীকে। অর্থাৎ নারীকেও ব্রাহ্মণের ভোগের বস্তু করে তুলছেন। মনুর বিধান কন্যা ঋতুমতী হওয়ার আগেই তাকে উপযুক্ত দান সামগ্রী দিয়ে পাত্রস্থ করতে হত। নাহলে পিতা নরকগামী হবে। নারী শৈশবে পিতা, যৌবনে স্বামী এবং বার্ধক্যে পুত্রের অধীনে থাকবে। বেদপাঠ, মনুসংহিতা পাঠ, ব্রত, যজ্ঞে নারীর কোন অধিকার থাকবে না। নারীর কোনও স্বাধীন সত্তা থাকবে না। মনু কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই কর্মফলের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ব্রাহ্মণের আধিপত্য কায়েম করা সম্ভব হয়েছিল।

ব্রাহ্মণ্যবাদী মনু দেশের বিচার ব্যবস্থা ও ব্রাহ্মণ্যদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। আইনের চোখে সবাই সমান নীতিতে মনু বিশ্বাসী ছিলেন না। প্রতিটি বর্ণের কর্তব্য অনুযায়ী বিচারের রায় ঘোষণা হবে। রাজা সেই সব নিয়মকানুনই আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন যেগুলি ব্রাহ্মণদের দ্বারা আচরিত হবে। বিচারের সময় একাধিক আইনের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা সংঘাত দেখা দিলে রাজা নিজের পছন্দ মত আইন প্রয়োগ করবেন। এতে রাজাকে সার্বভৌম করে তোলা হয়েছে। রাজা ঈশ্বর প্রেরিত। তার কোন ভুল হতে পারে না এই ধারণায় শিলমোহর দিয়েছেন মনু। এই অবাধ এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দানের ফলে রাজার স্বৈরতন্ত্রী হওয়ার যথেষ্ট অবকাশ থেকে গেছে। মনু যে ঐশ্বরিক আইনের কথা বলেছেন তা সলে ব্রাহ্মণদের প্রদত্ত বিধান। এভাবে মনু একদিকে যেমন স্বৈরতন্ত্রকে উজ্জীবিত করেছেন অপরদিকে ব্রাহ্মণবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রাজা সর্বশক্তিমান, তাঁর ঐশ্বরিক শক্তি আছে মনুর এই সূত্র সংঘ পরিবারও মেনে নিয়েছে। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে রাজতন্ত্রের যুগে যে ধারণা কার্যকরী ছিল আজকের গণতন্ত্রের যুগেও সে ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে হিন্দুত্ববাদীরা। মনুকে শিরোধার্য করে তারা মোদিকেও প্রায় অবতার বানাতে উদ্যত হয়েছে। মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষের রায়ে ক্ষমতায় এসে তারা এখন বলতে শুরু করেছে ‘হর হর মোদি, ঘর ঘর মোদি’। মনু মনে করতেন সমস্ত জগতকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর রাজার সৃষ্টি করেছেন-‘অরাজকে হি লোকেহস্মিন সর্ব্ব তো বিদ্রুতেস ভয়াৎ। রক্ষারথম্য সর্বস্য রাজনম স্রিজত প্রভু’। রাজা আসলে মনুষ্যরুপী দেবতা-এই কথায় মনু বার বার বলতে চেয়েছেন। রাজাকে এইভাবে মহিমাম্বিত করেও রাজার প্রধান কাজের মধ্যে ব্রাহ্মণদের সেবাকে রাখতে ভুল করেননি। মনুর মতে, রাজার কতৃক অলঙ্ঘনীয়। রাজা এবং ব্রাহ্মণের বিরোধিতা করা উচিত নয়। প্রজারা রাজার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ করবে। রাজার বিরুদ্ধাচারণকারীদের বিনাশ করে ফেলতে হবে। হিন্দুত্ববাদ শাসককূল মনুর এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। যে কোনও বিরুদ্ধ কন্ঠকে তারা চিরকালের জন্য স্তব্ধ করে দিচ্ছে। পানসারে, দাভোলকর, কালবুরগি, গৌরি লঙ্কেশের মত মুক্ত চিন্তার মানুষকে তারা হত্যা করেছে। যেকোন সমালোচনা কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। ভারভারা রাও -এর মত বর্ষীয়ান কবি মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তার হয়েছে। আরও বেশ কয়েক জন মুক্ত চিন্তার মানুষকে দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে মিথ্যা, সাজানো মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিশেষ একথা অবশ্যই স্বীকার্য যে মনু বৈদিক যুগের মুক্ত সমাজকে নানা ধরনের কঠোর নিয়মের জালে বন্দী  করেছিলেন। তিনি ভারতের বর্ণভেদ প্রথাকে কঠোর ভাবে প্রয়োগে প্রয়াসী ছিলেন। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রভাবে এবং প্রসারে হিন্দু ধর্মের মূল কাঠামো যখন প্রায় ভেঙে পড়েছিল তখন মনু তার হাল ধরেছিলেন। যেহেতু বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মে বর্ণ প্রথা না থাকায় নিম্নবর্ণের মানুষ ক্রমশ ওই শ্রেণীহীন ওই ধর্মের দিকে ঝুকেছিল। সাধারণ মানুষের জন্য ধর্মীয় বিধিগুলিকে সহজ সরল নৈতিকতার ধারণার মধ্যে প্রচার করা হয়েছে। এর ফলে হিন্দু ধর্ম বিপন্ন হয়ে পড়ে। হিন্দু ধর্ম যখন জাত-পাত নানা কঠোর নীতিতে জর্জরিত তখন সমকালীন যুগের বিচারে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম অনেক প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করেছিল। এই ধর্মগুলি ছিল গণমুখী। মনু এই প্রগতিশীল ধারার বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের বিধিগুলিকে পুনরায় চালু করার কাজে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর পুশ্য শুঙ্গ মিত্র যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন মৌর্য ও বৌদ্ধ ধর্মের ওপর আঘাত নেমে এসেছিল। ভারত থেকে বৌদ্ধদের নিশ্চিহ্ন করার কাজ শুরু হয়েছিল। ভারত আবার জাত-পাত অনুষ্ঠানের পঙ্কে ডুবে গিয়েছিল । হিন্দুত্ববাদী সরকার আবার সেই মনুবাদকেই ভারত প্রতিষ্ঠা দিতে উদ্যত হয়েছে। এর ফলে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জ্যোতিরাও  ফুলে এবং ভীমরাও আম্বেদকর সংস্থার মুক্তির যে শিখাটি প্রজ্বলিত করেছিলেন তা নির্বাপণের উদ্যোগ আবার শুরু হয়েছে। মনুবাদকে আবার সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা ক্রমশ পেছন দিকে এগিয়ে চলেছি।

সৌজন্যে- কালান্তর